• তারাতলা বিপর্যয়: ফিরহাদ হাকিমের নামে এ বার থানায় অভিযোগ, নাম রয়েছে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলারেরও
    এই সময় | ২৭ জুন ২০২৬
  • তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় এ বার কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের। অভিযোগ দায়ের করেছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (BJMC) দক্ষিণ কলকাতা শাখা। একই সঙ্গে কলকাতার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার আনোয়ার খান ও ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সামস ইকবালের নামেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে এখনও অবধি ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বিল্ডিং কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। BJMC-র বক্তব্য, এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। বেআইনি নির্মাণের কারণেই এই ঘটনা। তারাতলায় থানায় দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে গাফিলতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার উল্লেখও রয়েছে।

    BJMC-এর দাবি, এই অভিযোগপত্রকে FIR হিসেবে গণ্য করে দ্রুত তদন্ত শুরু হোক। এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ ও মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। BJMC-র তরফে ফিরহাদ হাকিম এবং ওই দুই প্রাক্তন কাউন্সিলারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।

    দক্ষিণ কলকাতা জেলা BJMC-র প্রেসিডেন্ট এমবি মহেশ এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘কলকাতা পোর্ট এলাকায় যত নির্মাণ হয়েছে, সবই ববি হাকিম, আনোয়ার খান আর সামস ইকবালের। সবই তৈরি হচ্ছে দু’নম্বরি জিনিস দিয়ে। এর আগে একটা বিল্ডিং ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল বলে সব ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। এ বার তারাতলার ঘটনা সকলে দেখল। এলাকায় যত বেআইনি কাজ হয়েছে, ববি হাকিম ফোন করতেন। সামস আর আনোয়ার কাজটা পেতেন। ওঁদের শাগরেদ ছিলেন আসগর। একটা বড় র‌্যাকেট চলত। যার মাথা ববি হাকিম। তাঁদের গ্রেপ্তার করতেই হবে।’ যদিও এই অভিযোগ নিয়ে ফিরহাদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

    তবে আগেই ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, কোনও নির্মাণের নকশায় অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এক্তিয়ারই ছিল না। শুধু তাঁর কেন, কোনও মেয়রেরই থাকে না। বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। আলাদা করে মেয়রের এ ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না।

    তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের যে নকশা অনুমোদন করেছিলেন কলকাতা পুরসভার তৎকালীন কর্তৃপক্ষ, সেখানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার বিধানসভাতেই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গুদামের নকশা ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়রই, তা-ও দাবি করেন তিনি। প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করেও নির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাতলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই কালীচরণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরেই ফিরহাদের গ্রেপ্তারির দাবিও জোরদার হচ্ছে।

    রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, কালীচরণ গ্রেপ্তার হলে, যিনি মন্ত্রী (তৎকালীন পুরমন্ত্রী ও প্রাক্তন মেয়র) ছিলেন, যাঁর নোটে সই ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না? তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, কাউকে ছাড়া হবে না। এরই মধ্যেই এ বার তারাতলা থানায় অভিযোগ দায়ের BJMC-র।

  • Link to this news (এই সময়)