• রাজ্য সফরে আসছেন লোকসভার স্পিকার, তোড়জোড় শুরু প্রশাসনের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুন ২০২৬
  • আগামী ৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে আসছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ রাজ্যে পালাবদলের পর এটাই তাঁর প্রথম সফর। তার উপর তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। সেটি নিজে গিয়ে হাতে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যার এখনও কোনও ফয়সালা হয়নি। তাই রাজ্যে এলে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আসবে তাঁর দিকে। এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসন এবং বিধানসভা কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে।

    এদিকে এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা। সেটি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব কনভেনশন সেন্টারে। এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে রাজ্যের ২৯৪ জন বিধায়ককে উপস্থিত থাকতে হবে। বিধানসভার কাজ, সংসদীয় শিষ্টাচার, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের নানা দিক নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের সেশন অনুষ্ঠিত হবে। দু’দিন ধরে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। যেখানে উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ সংসদীয় বিশেষজ্ঞ এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বলে সূত্রের খবর। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকারিতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নানা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভূমিকা এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে। স্পিকারের বক্তব্য এবং নির্দেশ বিধায়কদের জন্য পথ চলতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব কনভেনশন সেন্টারে এই অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিধায়ক ও বিশিষ্ট অতিথিদের প্রবেশ ও যাতায়াতের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    তাছাড়া প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, বিধায়কদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় দিনে জনসংযোগ, নীতি প্রণয়ন এবং জনমুখী প্রশাসনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। একইসঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকবে, যেখানে বিধায়করা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছে তাঁদের মতামত এবং প্রশ্ন তুলে ধরতে পারবেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)