ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর, তারাতলা বিপর্যয়ে উঠছে গ্রেপ্তারের দাবি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুন ২০২৬
তারাতলা বিপর্যয় এবং ত্রুটিপূর্ণ নকশায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে এবার কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এমনকী কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং শামস ইকবালের বিরুদ্ধেও তারাতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন ‘ভারতীয় জনতা মজদুর সেল’। এই বিপর্যয়ে ১৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই নিয়ে শহরজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বিল্ডিং কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের বক্তব্য, এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। বেআইনি নির্মাণের জেরেই এই ঘটনা। তারাতলা থানায় দায়ের করা ওই অভিযোগপত্রে গাফিলতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চারটি বিষয় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এক, প্রাক্তন মেয়র ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করতে হবে। দুই, এই বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতল ধসের জেরে এতগুলি শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী সবাইকে চিহ্নিত করতে হবে। তিন, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবালকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। চার, সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি নির্মাণগুলি দ্রুত পরিদর্শন করতে হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতা জেলা ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের প্রেসিডেন্ট এমবি মহেশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কলকাতা পোর্ট এলাকায় যত নির্মাণ হয়েছে সবই ফিরহাদ হাকিম, আনোয়ার খান আর সামস ইকবালের। সবই তৈরি হয়েছে্ দু’নম্বরি জিনিস দিয়ে। এই ঘটনার আগে একটা বিল্ডিং ভেঙে গিয়েছিল। তখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল বলে সব ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। এবার তারাতলার ঘটনা সকলে দেখতে পেল। এলাকায় যত বেআইনি কাজ হয়েছে সব ফিরহাদ হাকিম করতেন। সামস আর আনোয়ার কাজটা পেতেন। ওঁদের শাগরেদ ছিলেন আসগর। একটা বড় চক্র চলত। যার মাথা ফিরহাদ হাকিম। তাঁদের গ্রেপ্তার করতেই হবে।’
তাছাড়া তারাতলার বিপর্যয়ে গুদামটির নকশায় চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড় প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অন্দরেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, ওই গুদামের নকশা সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তারপরও কেন গ্রেপ্তার নন ফিরহাদ হাকিম? উঠছে প্রশ্ন। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যদি সত্যি ফিরহাদ হাকিম দোষী হয় তাহলে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে বুঝব চাপ তৈরি করা হচ্ছে।’