এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন রাঘব, ‘রাম’? লড়াইয়ে বাংলার লিয়েন্ডারও
প্রতিদিন | ২৭ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী জর্জ কুরিয়েনের ইস্তফার পর একটা জিনিস স্পষ্ট। এবার মোদি মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে চলেছে। সেটা সম্ভবত আগামী মাসের শুরুতেই। শোনা যাচ্ছে, অন্তত ৭-৮ জন সাংসদ নতুন করে মন্ত্রী হতে পারেন। প্রত্যাশিতভাবেই মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের উপর ছাঁটাইয়ের খাঁড়া ঝুলছে।
সদ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদের দু’বছর পূর্ণ করেছেন। বিজেপির অতীতের রীতি বলছে, মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’বছর পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়। তাছাড়া নীতীন নবীন বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর পাঁচমাস কেটে গেলেও তাঁর নতুন ‘টিম’ তৈরি হয়নি। বিজেপি সূত্র বলছে, এবার মন্ত্রিসভার রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল দুটো হবে একে অপরের সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে। অর্থাৎ মন্ত্রিসভা থেকে কিছু মুখ আসবেন সংগঠনে। আবার মন্ত্রিসভায় কিছু নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হবে। কিছু পুরনো নেতাকে ছুটিও দিয়ে দেওয়া হতে পারে।
মোদি মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ কারা হতে পারেন? প্রথমেই উঠে আসছে রাঘব চাড্ডার নাম। সদ্য আম আদমি পার্টিতে মেগা ভাঙনের কারিগর রাঘব। সোশাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় মুখ। তাছাড়া সামনে পাঞ্জাবের ভোট। সেদিকে লক্ষ্য রেখে রাঘব চাড্ডাকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। এপস্টিন ফাইলে নাম জড়ানো কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর আর মন্ত্রী থাকবেন কিনা-তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কুরসি হারাতে পারেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। নিট-সহ নানাবিধ পরীক্ষা নিয়ে যে বিতর্ক দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে, তাতে ধর্মেন্দ্রকে মোদি আর মন্ত্রী রাখবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও ওড়িশার ওই সাংসদ রীতিমতো প্রভাবশালী, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং আরএসএসের আস্থাভাজন।
নতুন যারা মন্ত্রী হতে পারেন, তাঁদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে অভিনেতা সাংসদ অরুণ গোভিলের। পর্দায় দীর্ঘদিন রামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশে সামনেই ভোট। সেদিকে নজর রেখে অরুণকে মন্ত্রিসভায় আনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আবার সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসাবে লিয়েন্ডার পেজের নামও শোনা যাচ্ছে। লিয়েন্ডার এখন সাংসদ নন, তবে বাংলা থেকে যে রাজ্যসভার আসনগুলি খালি হচ্ছে, সেগুলির একটি থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। লিয়েন্ডারকে মন্ত্রী করা হলে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদেরও বার্তা দেওয়া যাবে। জর্জ কুরিয়েনের ইস্তফার পর মন্ত্রিসভায় আর কোনও খ্রিষ্টান বা মুসলিম মুখ নেই। এর বাইরে মন্ত্রিসভায় ঢুকে যেতে পারেন, বাংলায় তৃণমূল শিবিরে ভাঙন ধরানো কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। লড়াইয়ে রয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের আরও দুই সাংসদ। বা শিব সেনার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাউকে মন্ত্রী করা হবে বলেও খবর। বিজেপি সূত্র বলছে, যাকেই মন্ত্রী করা হবে, তাঁকে ২০২৯ নির্বাচনের কথা ভেবেই করা হবে। ফলে শুধু যে রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রাখা হবে, তাই নয়। দক্ষতা এবং বয়সের দিকেও নজর রাখা হবে।