পালাবদলের বাংলায় তৃণমূল নেতাদের উপর জনবিস্ফোরণের যেন আর শেষ নেই! ডিম থেরাপি, মারধোর, দড়ি পরিয়ে এলাকা ঘোরানো – সবই চলছে একই গতিতে। এমনকী শাসকশিবিরের তরফে বারবার আইন নিজের হাতে তুলে না দেওয়ার বার্তা দেওয়া হলেও জনতার রোষ বাঁধ মানছে না। চারদিকে এমন অত্যাচার দেখে নিজের গা বাঁচাতে স্কুলে লুকিয়েও শেষরক্ষা পেলেন না হুগলির তৃণমূল নেতা। বাড়ি ফেরা মাত্রই মহিলারা চড়াও হয়ে জুতোপেটা করলেন! মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল সেই ভিডিও। পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সময় থেকেই গোঘাটের তৃণমূল নেতা গৌতম পাত্রের বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক হিংসা, মহিলাদের উপর অত্যাচার, বাড়ি ভাঙচুর, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো অভিযোগের পাহাড় জমে। এমনকী ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগেও পাড়ায় পাড়ায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন গৌতম। ফলপ্রকাশের পর তৃণমূলের ভরাডুবির পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর শনিবার তিনি এলাকায় ফেরেন। তাঁকে দেখামাত্রই মহিলারা তাঁর উপর চড়াও হন। বাঁচতে স্থানীয় এক স্কুলঘরে আশ্রয় নেন গৌতম। কিন্তু তাতেও রক্ষা মিলল না। তাঁকে স্কুলঘর থেকে বের করে নিজেদের জুতো খুলে ব্যাপক মারধর করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যদিও ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’।
এনিয়ে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সদস্য শিশির রায়ের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের উপর আসলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। আমরা যদিও এমন মারধরের বিপক্ষে, কিন্তু লোকজন খেপে গেলে তো কিছু করার থাকে না। তাই তৃণমূলকে দেখলেই লোকে মারধর করছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই, এসব দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরা হোক। নাহলে এভাবে জনতার কাছে মারধর খেতে হবে।”