• হুগলির জয়জয়কার! জনাইয়ের মনোহরা, চন্দননগরের জলভরা পেল জিআই ট্যাগ, বাংলার ‘নৌকাও’ পেল জিআই তকমা
    News18 বাংলা | ২৭ জুন ২০২৬
  • হুগলির মুকুটে নয়া পালক৷ জিআই স্বীকৃতি পেল চন্দননগরের জলভরা, বলাগরের নৌ শিল্প, জনাইের মনোহরা ও বেগমপুরের শাড়ি। বাংলার মিষ্টি ও লোকো শিল্পের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় যোগ হল। হুগলি জেলার চার প্রাচীন ঐতিহ্য চন্দননগরের জল ভরা সন্দেশ, বলাগরের নৌকা শিল্প ও জনাইের মনোহরা। এবার জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) ট্যাগ পেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের পর এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত মিষ্টির কারিগর থেকে নৌ শিল্পীরা।

    আগামী দিনে এই মিষ্টিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনার করার দাবী জানান হচ্ছে।সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া নৌ শিল্পের পুনঃরুজীবনের সরকারি পদক্ষেপের দাবী করছে শিল্পীরা। চন্দননগরের জল ভরা শুধু মিষ্টি নয়, বাঙালির আবেগ। টলটলে রসে ভরা বিশাল আকৃতির এই সন্দেশের সুনাম দেশজুড়ে। চলতি মাসে তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাকে চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ দেওয়া হয়। সিঙ্গুরের বেগমপুরের শাড়িও জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।

    চন্দননগরের মিষ্ঠান্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী শৈবাল মোদক বলেন, ‘‘চন্দননগরের জলভরা সর্বভারতীয় স্তরে একটা সুনাম রয়েছে। চন্দননগরের জলভরা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার জন্য জি আই পাওয়া প্রয়োজন ছিল। জলভরা সন্দেশ জি আই পাওয়াতে আমরা খুবই আনন্দিত। ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আমরা জিআই এর জন্য আবেদন করি। দীর্ঘ চার বছর বাদে এই স্বীকৃতি পেয়েছি। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যম দিয়ে এই মিষ্টি পাস করেছে। সূর্য মোদকের জলভরা এখন থেকে চন্দননগরের জলভরা হিসেবেই পরিচিতি পাবে আগামী দিনে। আমরা চাই চন্দননগরে সূর্য মোদকের একটা মূর্তি স্থাপন করার তার জন্য বিধায়কের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আন্তর্জাতিক বাজারে জলভরা প্রসার ঘটাতে গেলে মিষ্টির মেয়াদ বাড়াতে হবে। এর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।তবেই জলা ভরার বিদেশের বাজারে মর্যাদা পাবে। ব্যবসার দিক খুলবে।’’

    অন্যদিকে, ডিঙ্গি নৌকার ধারক বলা হয় হুগলি বলাগড়কে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বছরের পুরনো এই শিল্প। শুরুর দিকে ডিঙি নৌকা তৈরি হতো বলাগড়ে। তাতে কোন পেরেক ব্যবহার করা হতো না। তার বদলে জোর কাঠ (কাঠের সঙ্গে অন্য কাঠ জুড়ে পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো) কিন্তু এখন জুলুস পেরেক ব্যবহার করা হয়।

    নৌ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছে এখনও বেশ কয়েকটি শিল্পী পরিবার। ডিঙ্গি নৌকা তৈরির জন্য যার খ্যাতি রয়েছে। ভারতবর্ষে এই প্রথম কোনও একটি নৌকো তার আঞ্চলিক স্বীকৃতি আদায় করল। হুগলি জেলার রাজবংশী পাড়া, শ্রীপুর বাজার, চাঁদরা, তেঁতুলিয়া অঞ্চলে যেসব নৌ কারিগর এই ডিঙি নৌকো বানিয়ে আসছেন তাঁদের কাছে এ এক বড় সম্মান৷

    বলাগরের আঞ্চলিক গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বলাগরের নৌ শিল্পে জি আই পাওয়া। প্রায় চার বছরের একটা লড়াই। সারা ভারতবর্ষে সমস্ত জায়গায় নৌকা বানান হয়। সুন্দরবন, কাকদ্বীপ ও জলপাইগুড়িতে নৌকো বানান হয় কিন্তু বলাগড়ের নৌ শিল্প অন্য রকম। সেই ইতিহাসকে ও বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন অধ্যাপক ডক্টর পিনাকি ঘোষ ও ডক্টর শান্তনু পান্ডা। আইনগতভাবে গবেষণাপত্র করে জমা দিতে হয়। সেইমতো পাঁচটি হেয়ারিংয়ের পর বলাগরের ডিঙি নৌকার স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা বোঝাতে পেরেছিলাম নৌকার প্রথম ধাপ ছিল ডিঙি নৌকা।

    বলাগড় নৌ শিল্প সমেতির সম্পাদক উৎপল বারিক বলেন, জিআই পাওয়ায় ফলে ভারতবর্ষের মানচিত্রে একটা জায়গা পেলাম তাতে আমরা খুশি। কিন্তু আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হলো বলতে পারব না। আমাদের নৌকা প্রধানত ব্যবহার করা হয় মৎস্যজীবী মানুষের জন্য। তারাও আর্থিকভাবে দুর্বল। সেই কারণে আমরাও নৌকার উপযুক্ত দাম পাচ্ছি না। এমনকি নৌ শিল্পীরাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারছে না।জি আই পাওয়া স্বীকৃতি কিন্তু আমাদের সরকারি সাহায্য যদি না পাই তাহলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে আগামী দিনে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)