কবিগুরুকে ঘিরে নয়া পরিকল্পনা সরকারের, বড় বরাদ্দের ঘোষণায় খুশিতে ডগমগ রবীন্দ্রপ্রেমীরা
News18 বাংলা | ২৭ জুন ২০২৬
বিশ্বকবি বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবার রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে ‘টেগোর কালচারাল ফেটার’। ২০২৬-২০২৭ সালের রাজ্য বাজেটে এমনই ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি জানান, চলতি অর্থবর্যে এই রবীন্দ্র সংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গত মাসের ৪ তারিখ রাজ্য পালাবদল ঘটেছে। বিপুল সংখ্যক সিট পেয়ে রাজ্য ক্ষমতা এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
আর রাজ্যে পালাবদলের পরে বিজেপি সরকারের এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। সেই বাজেটেই রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে এই বড় উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাজেটে এই ঘোষণার পরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি এবং আশাবাদী রবীন্দ্রপ্রেমীরা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও রবীন্দ্রঅনুরাগী তাঁর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন।
আর সেই কারণে এই কথা মাথায় রেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তাধরাকে ছড়িয়ে দিতে নতুন একটি টেগোর কালচারাল সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। রবীন্দ্রচর্চার জন্য নতুন এই বিশেষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সরকারি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মত শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক,পর্যটক ও বাসিন্দাদের। তবে কেন্দ্রটি কোথায় গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি।
আশ্রমিক, প্রাক্তনী, পড়ুয়া, রবীন্দ্র অনুরাগীদের কথায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে রবীন্দ্রচর্চার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। গবেষক, পড়ুয়া, অধ্যাপক-কর্মীরাও উপকৃত হবেন। প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন “এই ঘোষনায় আমরা আনন্দিত। তাঁকে নিয়ে যত বেশি চর্চা হবে, সমাজ ততই উপকৃত হবে।” বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী ও বর্তমান পড়ুয়াদের আশা, শান্তিনিকেতন বা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত যে কোনও জায়গায় এই কেন্দ্রে গড়ে উঠতে পারে। এতে দেশ-বিদেশের গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীর উপকার হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সাংস্কৃতিক পর্যটনের সম্ভাবনাও।