মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন ধুলিয়ান পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সারিফ শেখ ওরফে হাড্ডি। সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক উপভোক্তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন সারিফ শেখ। এই মর্মে এলাকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মহিলা সামশেরগঞ্জ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশি সূত্রের দাবি, তদন্তে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মেলার পর শুক্রবার রাতে ধুলিয়ানে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সারিফ শেখকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাঁকে সামশেরগঞ্জ থানায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। শনিবার ধৃত কাউন্সিলরকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধুলিয়ান পৌরসভা ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে গ্রেফতার হয় অন্য এক পৌর সদস্য মেহবুব আলম। কয়েক দিন আগেই ধুলিয়ান পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রোশনারা বিবির স্বামী তথা কাউন্সিলর প্রতিনিধি মেহবুব আলমের বাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে আগেভাগেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ‘কাটমানি’ হিসেবে নিয়েছিলেন মেহবুব।
শুধু তাই নয়, উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা ঢোকার পর তাঁরা যাতে তা তুলতে না পারেন, তার জন্য আগে থেকেই গ্রাহকদের চেকবুক-সহ ব্যাঙ্কের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি নিজের জিম্মায় রেখে দিতেন ওই তৃণমূল নেতা। পরবর্তীতে মেহবুব নিজেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর, বালি বা অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ। আবার অনেক ক্ষেত্রে টাকা নিয়েও ঘর দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে আবার নতুন করে আরও একজন পৌর সদস্য গ্রেফতার হতেই রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে ধুলিয়ানে ।