অমৃতা সিংয়ের খোঁজে এ বার সিআইডি-র সাহায্য নিচ্ছে জেলা পুলিশ। মাস তিনেক আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বীরভূমের ওই তরুণীর সম্পর্কে নানা তথ্য প্রকাশ করা হবে সিআইডি-র বিশেষ বুলেটিন ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স গেজেট’ (সিআইজি)-এ। এমনই খবর জেলা পুলিশ সূত্রে। তদন্তকারীদের মত, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বার করতে এই কৌশল অত্যন্ত উপযোগী। এর মাধ্যমে ভিন রাজ্যের পুলিশ বা অন্য তদন্তকারী সংস্থাকে সজাগ করা হয়। অমৃতা যদি অন্য কোনও রাজ্যে চলে গিয়ে থাকেন এবং সেখানকার পুলিশের যাতে তাঁর হদিশ পেতে অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
মাস তিনেক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি বছর চব্বিশ বয়সি অমৃতা। বাবা অর্ধেন্দু সিং সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি। শেষে মেয়ের খোঁজে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন বৃদ্ধ। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে কার্যত গোটা বীরভূমই চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। মেয়ের নাম-ছবি, শরীরের বর্ণনা সবই লেখা সেই প্ল্যাকার্ডে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই একটি বিশেষ টিম তৈরি করে অমৃতার খোঁজ শুরু করেছে জেলা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এ বার তদন্তে আরও গতি আনতেই অমৃতার তথ্য সিআইডি-র বুলেটিনে প্রকাশ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
সিউড়ি থানা সূত্রে খবর, শনিবারই তরুণীর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সিআইডি-তে পাঠানো হবে। তারা সেই তথ্যই (তরুণীর ছবি, শারীরিক বর্ণনা, জন্মদাগ, নথিপত্রের ছবি) নিজেদের বুলেটিনে আপলোড করবে। যা পরবর্তী কালে পৌঁছে যাবে অন্যান্য রাজ্যের সিআইজি বিভাগে। পুলিশ মহল জানাচ্ছে, সিআইজি হলো দেশের পুলিশি ব্যবস্থায় তথ্য আদানপ্রদানের একটি মাধ্যম। একে এক রকমের তথ্যভাণ্ডারও বলা যেতে পারে। সাধারণত নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পেতে, অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্তকরণে, কিংবা অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সিআইজি-র তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগানো হয়।
রাজ্যের এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘সিআইজি সিআইডি-র ভিতরেরই একটি বিভাগ। জেলায় জেলায় যেমন মিসিং পার্সন ব্যুরো থাকে, তেমনই সিআইডি-র ভিতরে মিসিং পার্সনদের জন্য যে দপ্তর রয়েছে, সেটাকে সিআইজি বলে। তারা একটা বুলেটিন বের করে প্রতি মাসে মাসে। বিভিন্ন থানা থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে তথ্য পাঠানো হয় সিআইডির কাছে, তা-ই প্রকাশিত হয় এই বুলেটিনে। তাতে নিখোঁজদের নাম, ছবি-সহ নানা তথ্য থাকে। দীর্ঘদিন ধরে কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে তদন্তকারী অফিসার প্রথমে পুলিশ সুপারকে জানান। তার পরে পুলিশ সুপার ডিআইজি সিআইডি-কে তা পাঠিয়ে দেন।’
জেলা পুলিশের এই তৎপরতা দেখে খুশি বাবা অর্ধেন্দু। তিনি বলেন, ‘এত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের শারীরিক এবং আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ এখন। এই অবস্থায় মেয়েটাকে যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে দিলে, আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’