• অভিষেককে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে খোঁচা পাপিয়ার
    আজকাল | ২৮ জুন ২০২৬
  • শনিবার দুপুরে হঠাৎ ফেসবুক পোস্ট বিজেপি বিধায়ক, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর। পোস্টের মাধ্যমে জানালেন, মাইক্রো সার্জারি হয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে এম আর বাঙুর হাসপাতালে যে চিকিৎসাধীন তিনি, সে-ও জানিয়েছেন। ঠিক কী হয়েছে তাঁর? জানতে আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে। 

    তিনি জানান বেশ কিছুদিন ধরেই নখকুনির সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে প্যারোনাইকিয়া (Paronychia) বলা হয়। যদিও বিষয়টি খুব একটা জটিল নয়, তবে সচেতনা না হলে সংক্রমণ ছড়াতে পারত। তাই সময় নষ্ট না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাঁকে সরাসরি অপারেশনের কথা জানানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শেই মাইক্রো সার্জারি করেন তিনি। 

    বিজেপি বিধায়কের কথায়, "আমি পাপিয়া অধিকারী আমার কী হবে? একদম স্ট্রং আছি আমি। আমি তো আর অভিষেক ব্যানার্জি নই। অভিষেকের সামান্য চোট লাগলে লন্ডনে যায়, আমি সরকারি হাসপাতালেই অপারেশন করাই‌। আমি তো টালিগঞ্জের বাসিন্দা, তাই বাঙুরই আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য জায়গা।"

    প্রসঙ্গত, টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা পরিচালক বনাম টেকনিশিয়ানদের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের ইতিহাস কারোর অজানা নয়। ফেডারেশনের তৎকালীন দাপুটে সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস -এর অঙ্গুলিহেলনে যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির পরিচালককে কোণঠাসা করা হয়েছিল, টেকনিশিয়ানদের দিয়ে ‘ফরমান’ জারি করিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল— তাতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন প্রযোজকেরা। স্বরূপ বিশ্বাসের সেই ‘স্বৈরাচারী’ নীতির বিরুদ্ধে মাথা নোয়াতে না চাওয়ায় বহু পরিচালক টলিউডে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন, হারিয়েছিলেন কাজ। এমনকী, প্রায় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পরিচালকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ‘ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ (DAEI)-কে।

    স্বরূপ বিশ্বাসের ক্রমাগত মানসিক চাপ, কাজের ক্ষেত্রে নোংরা রাজনীতি এবং ‘ব্ল্যাকমেল’-এর ভয়ে একসময় যে সমস্ত স্বাধীনচেতা পরিচালক ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, পাপিয়া অধিকারী তাঁদের সবাইকে আবার সসম্মানে নিজেদের পুরনো গিল্ডে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • Link to this news (আজকাল)