আজকাল ওয়েবডেস্ক: শাসক থেকে বিরোধী। দলের অন্দরে ডামাডোল চরমে। তার মধ্যেও ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই একুশে জুলাইয়ের সভা করতে চান মমতা ব্যানার্জি। সে জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে এইদিনই তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীর তরফে ঋতব্রত ব্যানার্জিও ২১শে জুলাই নিয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।
গত কয়েক দশক ধরে ধর্মতলায় দলের 'শহিদ দিবস' কর্মসূচি পালন করেছে তৃণমূল। যদিও, ওই সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে নানা একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবুও অবস্থায় স্থান বদলে রাজি নন তৃণমূল নেত্রী।
২১ জুলাই উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে প্রাথমিক প্রস্তুতি চালাচ্ছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। শেষপর্যন্ত দলের তরফে পুলিশে অনুমতির জন্য চিঠি দেওয়া হল লালবাজারে।
শহিদ তপর্ণে গত দেড় দশকে এই সময় থেকেই শুরু হত কর্মব্যস্ততা৷ দলের অন্দরে চলত তোড়জোড়৷ এবার সেই ব্যস্ততার রেশমাত্র নেই৷ জোড়া-ফুলে ভাঙান দেখা গিয়েছে। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বেশিই 'বিদ্রোহী'। ২৯ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই-তে নাম লিখিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের প্রতীক আদৌ মমতার কাছে থাকে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এই অবস্থায় নিজের হাতে তৈরি দলের শক্তি মাপতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জি। গত বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে জেলার কর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মিসভা থেকেই ফোনে কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা পাঠান স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী। মমতা ব্যানার্জি বলেন, "শহিদ স্মরণ কর্মসূচি বছর বছর ধর্মতলাতেই করে এসেছে তৃণমূল। এবারও পুলিশের অনুমতি পেলে সেখানেই সেই কর্মসূচি হবে। পাঁচ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব।"
টেলিফোনে বক্তব্য রাখতে মমতা বলেন, “দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার করছে বিজেপি। তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে একমাত্র লড়তে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। কর্মীরা যাদের হয়ে লড়াই করে জেতালো, তারা নিজেদের সম্পত্তি বাঁচাতে নাম লেখাচ্ছেন যাদের সঙ্গে লড়াই হল, তাদের দলেই। যাঁরা যেতে চান যান। কিন্তু, সিপিএম থেকে আসা একজন নেতাকে সামনে রেখে দলের সঙ্গে যাঁরা বেইমানি করলেন, তাঁদের ক্ষমা নয়।”