শহিদ দিবস পালন কোথায়? তা নিয়ে দুই তৃণমূলে সংঘাত প্রকাশ্যে, আসরে কংগ্রেসও
আজ তক | ২৮ জুন ২০২৬
Sahid Diwas Tussle: এবার একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ‘শহীদ দিবসে’র সমাবেশের আসল দাবিদার কে তা নিয়ে এ রাজ্যে একেবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গেল ছাব্বিশের ভোটে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবি ও দল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সমীকরণ ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ২০২৬ সালের একুশে জুলাই যত এগিয়ে আসছে দল ভাঙার পর সেই ক্ষমতার লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় কালীঘাটকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ময়দানে নেমে পড়ল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী শিবিরের মাথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। দু পক্ষই এবার ধর্মতলার সেই চেনা চত্বরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাই পালন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই পরিস্থিতিতে শনিবারে এই লড়াইয়ে এক নতুন মোড় এল।
শনিবার তপসিয়ার একটি ব্যাঙ্কোয়েটে ঋতব্রত-তৃণমূলের এক হাই প্রোফাইল যৌথ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কলকাতা পুরসভার বিদ্রোহী ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত এই মেগা বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাপ বাড়ল কালীঘাট শিবিরের ওপর। বৈঠকে হাজির ছিলেন রাসবিহারীর প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার এবং অরূপ চক্রবর্তীর মতো একাধিক দাপুটে প্রাক্তন কাউন্সিলর। এই মেগা বৈঠকে মোট ৫১ জন কাউন্সিলর এবং ৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের স্পষ্ট বার্তা এবারের একুশে জুলাই হলো দলের ঘুরে দাঁড়ানোর আসল সময়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কালীঘাট শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতক তথা প্রবীণ বিধায়ক আখরুজ্জামান। তিনি সাফ জানান যে তাঁরা কলকাতা পৌরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে আগামী দিনে দলটাকে আরও মজবুত শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার আলোচনা করেছেন এবং বুথ স্তর পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন।
এর পরেই একুশে জুলাই প্রসঙ্গে আবেগ এবং ক্ষোভ উগরে দিয়ে আখরুজ্জামান যোগ করেন যে ২১ জুলাই তাঁদের আবেগ এর আগে যখন কর্মীরা কলকাতায় এসেছেন তখন শুধু নায়ক নায়িকাদের ভিড়ে শহীদ পরিবার মর্যাদা পায়নি, তাঁরা হারিয়ে যেতেন। এবার শহীদ পরিবারদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে এবং যেহেতু তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস তাই তাঁরা ২১ জুলাই নিশ্চিন্তভাবেই কলকাতার বুকে করবেন। একই সঙ্গে মমতাপন্থীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যারা বিধানসভায় পরিষদীয় দলই গঠন করতে পারে না সংখ্যাই নেই তারা আবার কী ২১ জুলাই পালন করবে! বিদ্রোহীদের এই একের পর এক চালে যখন কালীঘাটের ওপর চাপ বাড়ছে তখন মমতাপন্থী তৃণমূলও হাত গুটিয়ে বসে নেই। কিছুদিন আগে উত্তর কলকাতায় কর্মিসভা করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন ৫ জনকে নিয়ে হলেও ধর্মতলার বুকে ২১ জুলাই পালন করবেন। দল ভাঙার এই অভূতপূর্ব সংকটের মাঝেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাফ জানিয়েছেন যে ২১ জুলাই সভা হবেই এবং দরকার হলে জিপের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় সভা করার ক্ষেত্রে যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে তা অবশ্য দুই শিবিরই ভালো বোঝে। রাস্তা বন্ধ করে বছরের পর বছর ধরে শহীদ দিবস পালন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলছে। যার জেরে কিছুটা পিছিয়ে মমতা শিবির। তবে তারই মধ্যে কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নামে। ঋতব্রত শিবির শনিবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলও শহীদ দিবস পালন করতে চেয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান জানান যে প্রশাসন যেখানে অনুমতি দেবেন, সেখানেই হবে। তবে তাঁরা প্রথমেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আবেদন করবেন এবং নতুন সরকার আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করলেও, প্রশাসন না দিলে সকলে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই দড়ি টানাটানির খেলায় এক নতুন টুইস্ট এনে ৩৩ বছর আগে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর তৎকালীন বাম সরকারের নির্বিচার গুলিবর্ষণকে নিজেদের আন্দোলন দাবি করে এবার প্রদেশ কংগ্রেসও শহীদ মিনারে ২১ জুলাই পালনের ঘোষণা করেছে ।ফলে ছাব্বিশের এই রাজনৈতিক আবহে আইনি গেরোর ফাঁক গলে শেষ পর্যন্ত কারা ধর্মতলার অনুমতি পাবে নাকি কংগ্রেসের শহীদ দিবসই খবরের শিরোনাম কাড়বে সেটাই এখন দেখার।