কয়েকদিন আগে বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তামান্নার মৃত্যু প্রসঙ্গ নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন পুলিশ প্রশাসনকে। তারপর তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপর থেকেই কালীগঞ্জের তামান্না খাতুন হত্যাকাণ্ডে একের পর এক গ্রেপ্তারি বেড়েই চলেছে।
ভিনরাজ্যে টানা তল্লাশি চালিয়ে আরও ১২ জন পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারির পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তামান্নার পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
গত বছরের ২৩ জুন কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন মোলান্দি গ্রামে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ৯ বছরের তামান্না খাতুনের। ঘটনায় নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন ২৪ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের শুরুতে ১১ জন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা পলাতক ছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন সাবিনা। এরপরই তদন্তে গতি আসে এবং শুরু হয় ধরপাকড়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গুরুগ্রাম ও নাগপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘তামান্নার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি। দ্রুত ও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, এফআইআরে নাম থাকা প্রায় সব মূল অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিন গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জনের নামও প্রকাশ করেছে প্রশাসন। ধৃতরা হলেন জিয়ারুল শেখ, সাবির শেখ, ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ, মিনারুল শেখ, আনিসুর শেখ, মিলন শেখ, রাজাবুল শেখ, জাকাত শেখ, সাহিবুল শেখ, আমিরুল শেখ এবং রকিবুল শেখ। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেপ্তারির ফলে মামলার তদন্ত আরও এগোবে এবং ঘটনার নেপথ্যের সমস্ত তথ্য সামনে আসবে।
এদিকে ধারাবাহিক গ্রেপ্তারির ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর আশা, তদন্ত দ্রুত সম্পূর্ণ হবে এবং দোষীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ রাজ্যে নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের বার্তাই তুলে ধরেছে।