• ২০২১-এ শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা! বারাবনির ‘ত্রাস’ তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি পুলিশের, জুতো জনতার
    প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
  • হাফপ্যান্ট, খালি পা আর কোমরে দড়ি! আসানসোলের বারাবনির একসময়ের ‘ত্রাস’ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা অসিত সিং ও তাঁর ভাইদের এহেন অবস্থায় দেখে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়াল গৌরান্ডি এলাকায়। তাঁদের ঘিরে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় মানুষজন। শুধু তাই নয়, কড়া শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা।

    গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে এবং সভায় হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তে এদিন ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মামলার রিকনস্ট্রাকশন বা  পুনর্নির্মাণের জন্যই তাঁদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধৃত নেতাদের দেখামাত্রই স্থানীয় মানুষজন একেবারে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেন। ধৃতদের রীতিমতো মারতে এগিয়ে যান তাঁরা! ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ধৃতদের লক্ষ্য করে চটি ছুঁড়তে শুরু করেন স্থানীয়রা। এমনকি পুলিশের ঘেরাটোপ টপকে ধৃতদের দু-এক থাপ্পড়ও লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় পরিস্থিতি কোনওমতে নিয়ন্ত্রণে এনে পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। একেবারে কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। 

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী জনসভা বানচাল করতে বারাবনি তৃণমূল ব্লক সভাপতি, তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য অসিত সিংয়ের নির্দেশেই আকবর ও বিশ্বজিৎরা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর ও মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা। ভোট-পরবর্তী হিংসায় বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন, যাঁরা পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাড়ি ফেরেন। সেই দিনের ঘটনার তদন্তেই এদিন ধৃতদের গৌরান্ডি হাটতলায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

    বলে রাখা প্রয়োজন, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানার ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে বারাবনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিং এবং তাঁর ভাই তথা পানুরিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। ‘সিং ব্রাদার্স’-এর আরেক ভাই পিন্টু সিং আগেই ধরা পড়েছিলেন, ফলে এই গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে বারাবনিতে অপরাধমূলক ও অত্যাচারী কার্যকলাপে যুক্ত মূল চক্রের শ্রীঘরের বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।

    বারাবনি এলাকায় দীর্ঘ এক দশক ধরে ধৃতদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম ও চুরির ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। অতীতে সিপিএম প্রার্থী গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে এবং বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলার নেপথ্যেও নাম জড়িয়েছিল এই অসিত সিংয়ের। অসিতের দাপট একসময় এতটাই ছিল যে, তাঁর জন্মদিনে খোদ বারাবনি থানায় বসে কেক কেটে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৎকালীন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল, যার জেরে পরে ওই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ডও হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই ‘সিং ব্রাদার্স’-এর পতনে ও আজকের এই হাল দেখে বারাবনির সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। এবার ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মামলার আরও গভীরে যেতে চাইছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)