পার্ক সার্কাস স্টেশন চত্বরে শুরু হলো ‘বুলডোজ়ার অ্যাকশন’। মাঝরাতে অভিযান চালিয়ে ভেঙে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘অবৈধ’ দোকান-স্টল। রেলের জমি দখলমুক্ত করতে এবং যাত্রী সুবিধার জন্যই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এই নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রশাসনের আধিকারিকরা।
শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন পার্ক সার্কাস। প্রতিদিন নিত্যযাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে রেলের জমিতে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ দোকান গজিয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, কয়েকটি জায়গায় রীতিমতো পাকা স্টল বানিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরে। এই নিয়ে ক্ষোভ ছিল নিত্যযাত্রীদের মধ্যেও।
রাজ্যে পালাবদলের পরে রেলের জমি দখলমুক্ত করতে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। চলতি মাসের শুরুতে পার্ক সার্কাস স্টেশন চত্বরের দোকানদার এবং ব্যবসায়ীদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকা খালি করে দিতে হবে। কিন্তু তার পরেও কেউ স্টল বা দোকান সরিয়ে নিয়ে যাননি বলে অভিযোগ।
এ দিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পার্ক সার্কাস স্টেশন চত্বর-সহ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং আরপিএফ। লাগিয়ে দেওয়া হয় ব্যারিকেড। প্রথমে মাইকিং করে রেলের জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ সময়ও দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু স্টেশন চত্বরের ব্যবসায়ীদের কেউই নিজে থেকে এগিয়ে এসে দোকান সরিয়ে নেননি বলে অভিযোগ। এর পরেই নামে বুলডোজ়ার। একের পর এক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ‘অবৈধ’ দোকান, স্টল, গুমটি।
উচ্ছেদের সময়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মজুত ছিল। চলছিল লাগাতার মাইকিংও। স্পষ্ট বলে দেওয়া হচ্ছিল, ‘প্রশাসনের কাজে বাধা দিলে ফল ভুগতে হবে।’ অবশ্য নির্বিঘ্নেই উচ্ছেদ অভিযান চলে। উচ্ছেদ অভিযান দেখতে আশপাশের বাড়ির জানলায়, ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককেই। তবে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি। আড়াই ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দেওয়া হয় পুরো এলাকা।
তবে এ বারই প্রথম নয়। এর আগেও নোটিস জারি করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের পাশাপাশি দমদম, হাবরা, যাদবপুরেও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের একাংশ খুশি। তাঁদের মতে, এর ফলে হকারদের দৌরাত্ম কিছুটা হলেও কমবে। স্টেশন চত্বর আরও খোলামেলা হবে। ব্যস্ত সময়ে চলাফেরায় সমস্যা হবে না। তবে দোকানদারদের একাংশের অভিযোগ, এ ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো বেআইনি। আদতে তাঁদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া হলো।