• চার প্রজন্মের আইনি লড়াইয়ের অবসান, ৭০ বছরের পুরোনো জমির দলিল বৈধ বলে রায় সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • উত্তরাখণ্ডের বুকে প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমির আসল মালিক কে? এই নিয়ে চলছিল বিবাদ। এক-দু’বছর নয়, টানা সত্তর বছরের টানাপড়েন। জড়িয়ে পড়েছিল চার-চারটি প্রজন্ম। অবশেষে তার নিষ্পত্তি হলো সুপ্রিম কোর্টে।

    জমিটির রেজিস্ট্রি হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ জুন। কিন্তু মালিকানা নিয়ে আপত্তি ওঠে। দায়ের হয় মামলা। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার নারসিপুর কলান গ্রামের ওই জমি আদলে শরাফত আলিদেরই বলে রায় দিলেন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। মজার বিষয় হলো, যে মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল, সেই মামলার বয়স বিচারপতিদের থেকেও বেশি।

    জমিটি ‘সেল ডিড’-এ কিনেছিলেন শরাফত আলির পূর্বপুরুষরা। তাঁদের দাবি, কেনার পর থেকে জমি তাঁদের দখলেই ছিল। ১৯৮৪ সালে জমির সরকারি নথিতেও তাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়। পরে জমির মালিকানা নিয়ে আপত্তি ওঠে। কয়েক জন দাবি করেন, দলিলে গন্ডগোল রয়েছে। সেই থেকে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।

    নিম্ন আদালত এবং উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট জমির দলিলকে অবৈধ বলে খারিজ করে দিয়েছিল। শেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শরাফত। দাবি করেন, যে সময়ে জমির রেজিস্ট্রি হয়েছিল, সেই সময়ে তাঁর পূর্বপুরুষরা নাবালক ছিলেন। তবে কেনার পর থেকে ওই জমির ভোগদখল তাঁরাই করছিলেন।

    মামলা নতুন মোড় নেয় ১৯৯৯ সালে। সংশ্লিষ্ট ‘ল্যান্ড কনসলিডেশন অফিসার’ অফিসার জানান, জমি কেনার দলিলটি গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১৭ সালে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টও সেই সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৫৭ সালের ওই বিক্রয় দলিল বৈধ।

    বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, দলিলটি জাল ছিল, কাউকে জোর করে সই করিয়ে জমি দখল করে নেওয়া হয়েছিল, এমন অভিযোগও কেউ করেননি। ফলে শুধুমাত্র ছোটখাটো অসঙ্গতির ভিত্তিতে দলিল বাতিল করা ঠিক হয়নি। শেষে সব দিক বিবেচনা করে দলিলটি বৈধ বলে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।

  • Link to this news (এই সময়)