• চেতনের কাঁধে মাথা রেখে ম্যাচ দেখছেন সিয়া, কেতন খুনের তদন্তের মাঝেই প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • ক্রিকেট ভালোবাসতেন পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনে মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল। রীতিমতো স্টেডিয়ামে যেতেন। প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতেন। আর এক অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর আলাপও হয়েছিল স্টেডিয়ামে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সিয়ার ভাই সাহিল গোয়েল এমনটা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শনিবার ভাইরাল হলো সিয়া ও চেতনের স্টেডিয়ামে বসে খেলা ক্রিকেট ম্যাচ দেখার ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন)।

    ভিডিয়োটি কবে তোলা, তা জানা যায়নি। সিয়া এবং চেতন কাদের খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, স্পষ্ট নয় তা-ও। ভিডিয়োতে শুধু দেখা যাচ্ছে, দর্শকাসনে পাশাপাশি বসে রয়েছেন সিয়া এবং চেতন। দু’জনেরই পরনে নীল রঙের জার্সি। খেলা দেখতে দেখতে নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়। ভিডিয়োতে আরও দেখা যাচ্ছে, কখনও কেতনের কাঁধে মাথা রাখছেন সিয়া। আবার কখনও তাঁর হাত জড়িয়ে ধরছেন।

    কেতন খুনে সিয়া এবং চেতনের সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই এই ভিডিয়ো তদন্তকারীদের নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। পুলিশের দাবি, কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বাগদানের আগেই চেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সিয়ার পরিবারও জানত গোটা বিষয়টাই। তদন্তকারীদের আরও দাবি, একটি ক্রিকেট ম্যাচে তাঁদের একসঙ্গে দেখার পরেই এই সম্পর্কের কথা প্রথম জানতে পারে সিয়ার পরিবার। যদিও সেই ম্যাচের ভিডিয়োই সামনে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    পুলিশের হাতে আসা কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ২,০০৪ বার ফোনে কথা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই কথোপকথনের মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের নজরে তাদের চ্যাটও। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পর্কের কথা জানার পরেও সিয়ার পরিবার কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করে। পুলিশের অভিযোগ, আগরওয়াল পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার কথা মাথায় রেখেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    তদন্তকারীদের দাবি, চেতনের সঙ্গে মিলেই কেতনকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া। একাধিক ব্যর্থ চেষ্টার পরে ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মোবাইল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলেছিল। এমনকী ডিলিটেড ফোল্ডারও পরিষ্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এখন ফরেনসিক টিম সেই ডেটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে পুরোদমে চলছে তদন্ত।

  • Link to this news (এই সময়)