• লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জেদ, অস্বাভাবিক আচরণ, সিয়ার বিরুদ্ধে FIR-এ কী কী অভিযোগ কেতনের পরিবারের?
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। ২৩ জুন দায়ের করা এফআইআরে মৃতের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল দাবি করেছেন, লোহাগড় দুর্গে যেতে চাননি তাঁর ছেলে। অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলই তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে রাজি করান। একই সঙ্গে ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে সিয়ার আচরণ বদলে গিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঠিক কী কী অভিযোগ করা হয়েছে এফআইআরে? সামনে এল সেই তথ্য।

    কেতনের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়ালের দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে সিয়ার আচরণ বদলে গিয়েছিল। কেতন নিজেই বাড়ির লোকেদের এই কথা বলেছিলেন বলে লেখা হয়েছে এফআইআরে। সামান্য বিষয়ে রাগারাগি, জেদ এমনকী অকারণে কেতনের সঙ্গে ঝগড়া করতেন বলে অভিযোগ করেছেন দেবীচাঁদ।

    এর আগে ৪ জুন লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সিয়ার। কিন্তু কেতন রাজি হননি। সেই সফর বাতিল হয়। এতে নাকি সিয়া অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এর পরে ১৭ জুন রাতে সিয়া হোয়াটসঅ্যাপে কেতনকে ফোন করেন। কথা বলেন তাঁর মায়ের সঙ্গেও। নিজের আসন্ন জন্মদিনের কথা বলে লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন বলে অভিযোগ। হবু পুত্রবধূর কথায় শেষ পর্যন্ত রাজিও হয়ে যান কেতনের মা। পরের দিন লোহাগড়ে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে খাদে ঠেলে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের।

    ঘটনার পরে ২১ জুন লোহাগড় দুর্গে যান কেতনের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ওই জায়গা থেকে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সিয়া সবসময় ফোনে ব্যস্ত থাকতেন, প্রায়ই তাঁর ‘বন্ধু’ চেতন চৌধুরীর কথা বলতেন বলেও দাবি করা হয়েছে এফআইআরে। পরিবারের অভিযোগ, সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেতন, আর সেই কারণেই এই খুনের ব্লুপ্রিন্ট।

    উদয়পুরের এক বিলাসবহুল রিসর্টে প্রায় ৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কেতন ও সিয়ার রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমনকি বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনাও করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পাসপোর্টে সমস্যার কারণে তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। এ দিন কেতনের বাড়ির সদস্য এবং তাঁদের আবাসনের বাসিন্দারা পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড়েতে মোমবাতি মিছিল করেন। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা।

    আবেগঘন বার্তায় কেতনের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল বলেন, ‘বিয়ে দিয়ে পুত্রবধূ আনতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ছেলেকেই হারালাম।’ অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন, কেতনের মা রাখী আগরওয়াল। তিনি বলেন, ‘সিয়া ও চেতনের ফাঁসি চাই। আমিও একজন মা, সিয়ারও মা আছেন। তবুও আমি চাই, সিয়া এবং চেতন—দু’জনেরই মৃত্যুদণ্ড হোক।’

  • Link to this news (এই সময়)