রূপক মজুমদার, বর্ধমান
দীর্ঘদিন আটকে ছিল গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর কাজ। অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় কিছু নেতার উস্কানিতে একাংশের চাষিদের বাধায় এই কাজ করতে পারছিল না হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)। রাজ্যে পালাবদলের পরে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ায় অবশেষে সেই কাজ শেষ করতে পারল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।
জানা গিয়েছে, ২০২৪-এ হলদিয়া থেকে পানাগড় পর্যন্ত এলপিজি-র পাইপলাইন নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিল এইচপিসিএল। প্রায় ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের কাজ শুরুর করার জন্য জমি অধিগ্রহণের পরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পায় সংস্থাটি। এই কাজের জন্য এইচপিসিএল লিখিতা ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিকে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজের বরাত দেয়, বরাদ্দ করে এক হাজার ১০৭ কোটি টাকা।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় এলপিজি-র সরবরাহকে মসৃণ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প রূপায়ণে উদ্যোগী হয়েছিল এইচপিসিএল। ২০২৬-এর মধ্যে এই পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য থাকলেও পূর্ব বর্ধমানের গলসি-১ ব্লকের প্রায় আট কিলোমিটার জমির উপরে পাইপলাইন বসাতে নানা ভাবে বাধা দিচ্ছিলেন স্থানীয় চাষিরা। তার জেরে শিরোরাই, লোহারামগোপালপুর ও পারাজ- মুলত এই তিনটি পঞ্চায়েত এলাকার ন'টি মৌজায় পাইপলাইন বসানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগ, সরকারি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় কিছু নেতা ওই মৌজাগুলির চাষিদের নানা ভাবে বিভ্রান্ত করেন এবং সেই চাষিরা তাঁদের জমিতে পাইপলাইন বসাতে বাধা দেন। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিষয়টি নবান্নে জানানো হলেও এই সমস্যা মেটেনি।
সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে এক মাস আগে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। সেই মতো জেলাশাসকের রামগোপালপুর, ব্যবস্থাপনায় নলডাঙা, মল্লাসারুল, কোরকোনা, ধরমপুর, লোহা, ভীমসারা, শিহিগ্রাম ও শিমনোরি- এই ন'টি মৌজার জমির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এইচপিসিএল-এর আধিকারিকরা।
এর পরে সরকার নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েই পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। গলসি থানার পুলিশ, বিএলএলআরও, জেলা প্রশাসন-সহ এইচপিসিএল-এর আধিকারিক, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় শুক্রবার বিকেলে ওই আট কিলোমিটার দীর্ঘ জমির তলায় পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হয়।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'এক মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে চেয়েছিলাম আমরা। তা পেরেছি। কারণ, বর্ষা শুরু হয়ে গেলে এই কাজ করা যেত না।' এইচপিসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিতে সাড়ে পাঁচ থেকে ছ'ফুট গর্ত করে এই পাইপলাইন বসানো হয়েছে। এই সমস্ত জমির মালিকরা তাঁদের জমিতে কংক্রিটের স্থায়ী নির্মাণ বাদে সমস্ত ধরনের কাজ করতে পারবেন। জমির ফসল রাখার জন্য অস্থায়ী কিছু নির্মাণে সমস্যা নেই।