• ৪ মাস মেলেনি টাকা, সঙ্কটে মা ক্যান্টিন
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর

    চার মাস ধরে বিল পাচ্ছেন না মা ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। এই অবস্থায় কোনও গোষ্ঠীর মহিলারা টাকার অভাবে ক্যান্টিন বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার কোনও গোষ্ঠীর মহিলারা ঋণ নিয়ে ক্যান্টিন চালাচ্ছেন। এমনই দুই ছবি দেখা গেল দুর্গাপুরের দুই প্রান্তে।

    গত চার মাস ধরে বিল না-পেয়ে ভিড়িঙ্গি অঞ্চলে একটি মা ক্যান্টিন বন্ধ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ওই গোষ্ঠীর এক সদস্য মিতালি বাগদি শনিবার বলেন, 'গত চার মাস ধরে বিল পাচ্ছি না। ধারে কেউ আনাজ, কাঠ ও অন্য সামগ্রী দিচ্ছেন না। তা হলে কী ভাবে ক্যান্টিন চালাব? পুর কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, দু'মাসের বিল এসেছে। দ্রুত দিয়ে দেওয়া হবে।'

    তিনি জানিয়েছেন, বিলের টাকা পেলে আবার ক্যান্টিন চালু করা যাবে। ক্যান্টিনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ দিন অনেকেই খাবার না-পেয়ে ঘুরে চলে যান। এমনই এক ব্যক্তি প্রবীর বাউড়ি বলেন, 'এর আগে একবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ আবার বন্ধ। এখানে পাঁচ টাকায় দুপুরের খাবার খেতাম। এখন বেশি টাকা দিয়ে বাইরে খেতে হবে।'

    বিপরীত ছবি দেখা গেল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। এখানকার মা ক্যান্টিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও গত চার মাস ধরে বিল পাননি। কিন্তু তাঁরা ক্যান্টিন বন্ধ করেননি। নিজেদের গোষ্ঠী থেকে ঋণ নিয়ে ক্যান্টিন চালু রেখেছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, 'এখানে রোগীদের আত্মীয়রা খাবার খান। অনেক দূর থেকে আসেন সবাই। হোটেলে গিয়ে বেশি দাম দিয়ে খাবার সাধ্য নেই ওঁদের। তাই লোন করে ক্যান্টিন চালিয়ে যাচ্ছি।'

    গোষ্ঠীর এক মহিলা সদস্য নিতু ভট্টাচার্য এ দিন বলেন, 'চার মাস বিল পাইনি। অসহায় মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে ক্যান্টিন বন্ধ করিনি। আনাজ থেকে ডিম, সব কিছুর দাম বেড়েছে। লোন নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি।'

    তবে এই বিষয়ে দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম এ দিন বলেন, 'বিলের টাকা এসেছে। হয়তো তিন দিন ধরে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় টাকা ঢুকতে দেরি হচ্ছে। গোষ্ঠীর টাকা ওদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।'

  • Link to this news (এই সময়)