জুলাইতেই জ্বালানি মানচিত্রে নতুন অধ্যায়, অশোকনগরে শুরু বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন
প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আগামী জুলাই মাস থেকেই প্রতীক্ষার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন শুরু হতে চলেছে। আগামী বছরের গোড়াতেই একই ক্ষেত্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ওএনজিসি। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের জ্বালানি মানচিত্রে নতুন গুরুত্ব পেতে চলেছে।
অশোকনগরে পাঁচটি উৎপাদনমূলক কূপ খনন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ থেকে জুলাই মাসেই তেল উৎপাদন শুরু হবে। বাকি কূপগুলিতে দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে পৃষ্ঠতল পরিকাঠামো, সংরক্ষণ ও পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ জোরকদমে চলছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, অশোকনগরের অপরিশোধিত তেলের গুণমান দেশের অন্যতম প্রধান তেলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের সমতুল্য। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
এই তেল ভাণ্ডার থেকে সরাসরি ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রয়্যালটি ও কর বাবদ যাবে রাজ্যের কোষাগারে। এই অর্থ এবং উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল হলদিয়া শোধনাগারে পাঠিয়ে রাজ্যের শিল্পায়নে ব্যবহার করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের।
সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের পথে অন্যতম বড় বাধা ছিল স্ট্যাম্প ডিউটি, রয়্যালটি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত আইনি জটিলতা। সম্প্রতি কেন্দ্র ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস আইন, ২০২৫’ কার্যকর করার পর সেই জট অনেকটাই কেটেছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সংসদে বিষয়টি বারবার উত্থাপন করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয়ও তিনি বজায় রেখেছেন।
শমীকের এর দাবি, অশোকনগরের তেল প্রকল্প শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে। তিনি বলেন, “জুলাই মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হবে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্প, সহায়ক পরিষেবা, পরিবহণ পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশীয় তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।” পাশাপাশি ওএনজিসি এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লগ্নি করেছে। রাজ্যে আরও দুটি বেসিনে তারা ৪২৫ কোটি টাকা লগ্নি করবে। যদিও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। সূত্রের দাবি, সে বিষয়ে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় শমীক ভট্টাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যের নতুন জমি নীতি কার্যকর হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।