• ‘কলকাতা বইমেলা একটি সংগঠনের নয়’, প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে উদ্যোগী সংঘ
    প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
  • আগামী বছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে কোনও একক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার উদ্যোগ। সকল প্রকাশক, মুদ্রাকর ও বই বিক্রেতার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি তুলেছে সংঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ প্রকাশনা জগতের একাংশ। এই লক্ষ্যেই ২৯ জুন কলকাতার মহাজাতি সদনে সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানে ৭০০-রও বেশি প্রকাশক, মুদ্রাকর ও বই বিক্রেতা অংশ নেবেন। সেখানে আগামী বছরের কলকাতা বইমেলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। আয়োজকদের দাবি, বইমেলা যেন কোনও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা সংরক্ষণের মধ্যে না থেকে সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত হয়। সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক দেবজিৎ সরকার বলেন, “৫০তম কলকাতা বইমেলা এমন হওয়া উচিত যেখানে কোনও গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রভাব থাকবে না।”
    সংগঠনের সদস্য সপ্তর্ষি চৌধুরি জানান, বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ৭০০-রও বেশি প্রকাশনা জগতের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আরএসএস-এর দক্ষিণবঙ্গের প্রচারক প্রমুখ জিষ্ণু বসু এবং কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে জানা গেছে।

    আয়োজকদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কলকাতা বইমেলার আয়োজনে কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। তাঁদের দাবি, সরকারের সমালোচক বা ভিন্ন মতের প্রকাশকদের অনেক সময় বইমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, “কলকাতা বইমেলা শুধু একটি সংগঠনের নয়, গোটা বাংলার বইমেলা হওয়া উচিত। বই বাংলার সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এই শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই সকল প্রকাশক ও সংগঠনকে সমান সুযোগ দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কলেজ স্ট্রিটের প্রকাশক সংগঠনগুলির পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রকাশক সংগঠনগুলিকেও আগামী ৫০তম বইমেলায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    অন্যদিকে, বিজেপির একাধিক নেতা ব্যক্তিগতভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের পরিবর্তে এমন একটি নতুন সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল প্রকাশক অংশ নিতে পারবেন এবং বইয়ের মান ও প্রকাশনার গুণগত মানের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)