কাবুলি পোলাও থেকে চাপলি কাবাব আফগান খাবারের রমরমা কাশ্মীরের হেঁশেলে
বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৬
ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: ঘোড়ার পিঠে চড়ব। ছোট্ট মেয়ে সকাল থেকে সমানে বায়না করছে। ডাল লেকে ঘোরানো হয়নি বলে গিন্নির মুখ ভার। ততক্ষণে মাথার উপর সূর্য। ভরদুপুরে রেস্তরাঁয় ঢুকেই খাবারের বরাত দিলেন দত্তবাবু। দাদা আমাদের চটপট কাবুলি পোলাও, নমকিন গোস্ত ও চাপলি কাবাব দিন। শুধু বাঙালি নয়, দেশের নানা প্রান্তের মানুষ, এমনকি বিদেশিদেরও মন কাড়ছে এই সমস্ত আফগান মেনু। সম্প্রতি কাশ্মীরের হেঁশেলে আফগান খাবারের এই রমরমা ঘিরেই চর্চা তুঙ্গে।
মশলার সূক্ষ্ম ব্যবহার ও রন্ধনশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় আফগানিস্তানের নানা খাবার। ধীর ধীরে তা কাশ্মীরের খাদ্য সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে উপত্যকার একাধিক রেস্তরাঁর চিত্র সেকথাই বলছে। শ্রীনগরের বাইরের দিকে এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁর মালিকের বক্তব্য, ‘বছর দুয়েক আগে আমরা আফগান খাবার পরিবেশন শুরু করেছি। দারুণ সাড়া পেয়েছি। আমাদের এখানে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের মানুষ চেটেপুটে আফগান খাবার খেয়ে যান। রেস্তরাঁয় আফগানিস্তানের একজন রাঁধুনিও রয়েছেন। আসলে সুগন্ধী মশলা ও নানা ধরনের ড্রাইফ্রুটস থাকায় খাদ্যরসিকরা আরও বেশি আকর্ষিত হন।’
গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কাশ্মীরের একাধিক কাফেতেও দেদার বিকচ্ছে আফগানি কাবাব। শ্রীনগরের পারায়পোরার এক রেস্তরাঁ মালিকের কথায়, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ইদানিং আফগান মেনু বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। নানা রিলস, ফুড ভ্লগিং দেখে তরুণ-তরুণীরা খেতে আসেন। পরে তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের লোকজনও ভিড় জমাচ্ছেন। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের মতো ধীরে ধীরে কাশ্মীরেও আফগান খাবারের আধিপত্য বাড়ছে। হবে নাই বা কেন। আশাক, মান্টু ডাম্পলিংস, নমকিন গোস্ত। নাম শুনলেই জিভে জল আসে।