বছরে ৭৭৪৪ কোটি, বিশ্বে সর্বাধিক বেতনের চাকরি যাদবপুরের শঙ্খর
বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইলন মাস্কের পরেই বেতনের নিরিখে বাঙালি! শুনতে অবাক লাগলেও, মার্কিন মুলুকে এমনই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। যা বঙ্গবাসীর অগোচরে রয়ে গিয়েছিল প্রায় এক বছর ধরে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্ট বলছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী শঙ্খ মিত্র বছরে ৭,৭৪৪ কোটি টাকা বেতন পান। ২০২৫ সাল থেকে। তবে প্রচলিত অর্থে বেতন নয়, ওয়েলটাওয়ার সংস্থার সিইও শঙ্খ তাঁর পদমর্যাদা অনুযায়ী লভ্যাংশ পাচ্ছেন যা সার্বিকভাবে বেতনেরই অংশ। ফলে তাঁর আয় আকাশ ছুঁয়েছে।
মার্কিন জার্নালটি ২০২৫ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিইওদের তালিকা প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। তাতেই দেখা গিয়েছে, টেসলা এবং স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের পরেই রয়েছেন শঙ্খ। ইলন শেয়ারের লভ্যাংশ বাবদ প্রতি বছর রোজগার করেন ১৫৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় তা দাঁড়াবে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি। প্রথম এবং দ্বিতীয়ের ফারাক অনেকটাই বেশি। তবে, ক্রমতালিকায় দ্বিতীয় থাকাও কম গৌরবের নয় শঙ্খ মিত্রের জন্য। ইলন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, মালিকও বলা যায়। সেখানে শঙ্খ সিইও হিসাবে চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক করে প্রাইসওয়াটারহাউজ কুপার্সে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে সংস্থার কাজেই মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেন। যাদবপুরে থাকাকালীন তাঁর স্মৃতি খুব জোরালোভাবে নেই শিক্ষক বা সহপাঠীদের মধ্যে। কেউ কেউ মনে করতে পারছেন, বেশ ভালো ছাত্র ছিলেন তিনি। তবে, তাঁর জীবনের গতিমুখ বদলে যায় কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলে যোগদানের ফলে। তিনি চাকরি ছেড়ে অ্যাপ্লায়েড ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টিংয়ে এমবিএ করেন এই প্রতিষ্ঠান থেকে। এর পরেই বিনিয়োগ ক্ষেত্রে তাঁর জন্য চাকরির দরজা খুলতে থাকে। সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্ট, মিলেনিয়াম ম্যানেজমেন্টের মতো সংস্থায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ২০১৬ সালে যোগ দেন ওয়েলটাওয়ারে।
২০১৮ সালে চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার পদে উন্নীত হন তিনি। আর ২০২০ সালে সংস্থার সিইও তথা ভাইস চেয়ারম্যান পদ পান। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। মার্কিন পুঁজি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ১০ বছর ধরে এক সংস্থায় থেকে যাওয়ার নজিরও বেশ কম বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তাঁর দক্ষতার জন্যই সংস্থা তাঁকে সঠিক বেতন এবং লভ্যাংশ দিয়ে ধরে রেখেছে। তাঁর নামে ১ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর অর্ধেক তিনি ২০৩১ সালে পাবেন।