• দশাবতার তাস থেকে ধ্বনি পাত্র বাঁকুড়ার ছয় সামগ্রীর জিআই ট্যাগ
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া এবং সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর ও খাতড়া: বাঁকুড়ার আরো ছ’টি সামগ্রীর জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) তকমা লাভ। বাঁকুড়ার কাঁসা পিতলের বাসন, বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস, বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ থেকে সাবা‌ই ঘাস, শাঁখের কাজ ও ধ্বনি বাটি বা সিঙ্গিং বাউল সম্প্রতি জিআই তকমা পেয়েছে। একসঙ্গে এতগুলি সামগ্রীর জিআই ট্যাগ পাওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে খুশির হাওয়া। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, আগেই জেলার চার সামগ্রী পাঁচমূড়ার টেরাকোটা, বালুচরি শাড়ি, ডোকরা ও বিষ্ণুপুরের মতিচুরের লাড্ডু জিআই তকমা পেয়েছিল। এবার আরো ছ’টি সামগ্রী তা পাওয়ায় জেলার মোট জিআই তকমা প্রাপ্ত সামগ্রী বেড়ে দাঁড়াল দশ।    

    মল্লরাজাদের আমলে বহুল প্রচলিত দশাবতার তাস অবশেষে জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় বিষ্ণুপুরের শিল্পীরাও ভীষণ খুশি। বহু বছরের দাবি পূরণ হওয়ার আনন্দে শিল্পীরা একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান শনিবার। তাঁরা জানান, মল্লরাজাদের আমলে দশাবতার তাসের খেলা খুব প্রচলন ছিল। কালের নিয়মে সেই খেলা প্রায় হয় না। কিন্তু মল্লরাজাদের স্মৃতি বিজড়িত ওই তাস তৈরি ছাড়েননি বিষ্ণুপুরের শাঁখারিবাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে খেলার জন্য ওই তাস খুব একটা ব্যবহার না হলেও তা  একেবারে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। পর্যটকরা দূরদুরান্ত থেকে এসে দশাবতার তাস কিনে নিয়ে যান। দশাবতার তাস শিল্পী শীতল ফৌজদার বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় এই তাস তৈরি করে আসছি। হাতে আঁকা তাস তৈরিতে অনেক সময় লাগে। তাই এই পেশায় অন্য কেউ আসতে চায় না। আমরা শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। একমাত্র বিষ্ণুপুরেই দশাবতার তাস তৈরি হয়। তাই এই শিল্পের ভৌগলিক গুরুত্ব রয়েছে। সেজন্য আমরা জিআই তকমা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে তদ্বির করেছি। অবশেষে তা মিলল। এতে আমরা ভীষণ খুশি। আগামী দিনে এই শিল্পের প্রচার ও প্রসার হলে আমরা আরও আনন্দিত হব। শীতলবাবু আরো বলেন, বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ ও কেঞ্জাকুড়া এবং বিষ্ণুপুর সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা কাঁসা-পিতল শিল্প জিআই ট্যাগ পাওয়ায় বাঁকুড়াবাসী উচ্ছ্বসিত। ওই দুই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষও এতে খুশি।   খাতড়া মহকুমার এলাকার একাধিক শিল্প পণ্য জি আই স্বীকৃতি পেয়েছে। যেমন ইন্দপুর ব্লকের হাটগ্রামের শঙ্খ, সিমলাপালের পুখুরিয়ার বেঙ্গল সিঙ্গিং বোল অর্থাৎ ধ্বনি পাত্র। জিআই স্বীকৃতি পাওয়া প্রসঙ্গে সিমলাপালের পুখুরিয়া গ্রামের পুখুরিয়া কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটি লিমিটেডে'র সভাপতি বনমালি কর্মকার ও সম্পাদক হারাধন কর্মকার বলেন, আমাদের গ্রামে প্রায় ৯০ জন শিল্পী কাঁসা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পুখুরিয়া গ্রামের এই শিল্প প্রায় দেড়শো বছরে পুরানো। দিন রাত পরিশ্রম করে শিল্পীরা বিভিন্ন মাপের সিঙ্গিং বোল বা ধ্বনি পাত্র তৈরি করেন। সেগুলি মহাজন মারফৎ নেপাল সহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেয়। কাঁসার তৈরি বাটি সাউন্ড থেরাপির কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে। যদিও ছোটো মাপের বাটি জেলাতে বাড়ির বিভিন্ন সাধারণ কাজেও ব্যবহার হয়। জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে এখন আর কোনো জায়গা থেকে ওই বাটির উৎপত্তি হয়েছে বলে কেউ দাবি করতে পারবে না। 

       বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস পেয়েছে জিআই তকমা। শিল্পীকে মিষ্টিমুখ। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)