নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে শনিবার ঐতিহ্যবাহী দণ্ড মহোৎসবে রেকর্ড ভিড়ের স্বাক্ষী থাকল পানিহাটি। ভিড়ের চাপ ও তীব্র গরমে প্রায় ৫০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ সহ আশপাশের হাসপাতালে ভরতি করতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মোটের উপর নির্বিঘ্নে ৫১০তম পানিহাটি দণ্ড মহোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তির শ্বাস ফেলেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। দণ্ড মহোৎসব বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষের আবেগের উৎসব। সেই আবেগে বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা ভিড় করেন পানিহাটি মহোৎসবতলা ঘাটের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরে। দিনভর স্রোতের মতো জনস্রোতে ভেসে যায় গঙ্গাপাড়ের পানিহাটি শহর। যা সামলাতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, হরিনাম প্রচারের উদ্দেশ্যে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুকে পানিহাটিতে পাঠিয়ছিলেন শ্রী চৈতন্যদেব। তৎকালীন হুগলি জেলার জমিদার বংশীয় রঘুনাথদাস গোস্বামী নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর আশীর্বাদ না নিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁকে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর কাছে ফেরত পাঠান। এসব জেনে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু মজা করে রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে দণ্ড দেন। ভক্তদের চিড়া, দই ও কলা খাওয়ানোর নির্দেশ দেন। রঘুনাথ আনন্দের সঙ্গে জৈষ্ঠ্য শুক্লা ত্রয়োদশীতে সেই দণ্ড পালন করেছিলেন। এরপর থেকে পানিহাটিতে দণ্ড মহোৎসব চালু হয়। গঙ্গাপাড়ের বিভিন্ন আখড়ার পাশাপাশি রাঘব ভবনেও ভক্তদের ভিড় চিল চোখে পড়ার মতো। নিজস্ব চিত্র