• তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, ছেলেদের দেহ নিয়ে আজ বিহারের পথে বৃদ্ধ বাবা
    বর্তমান | ২৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবারে অনটন। রোজগারের আশা নিয়ে বিহারের মুঙ্গের থেকে তারাতলার নির্মাণক্ষেত্রে পা রেখেছিল কুমার পরিবার। বাবা রাজেন্দ্র কুমার, সঙ্গী তাঁর পাঁচ ছেলে। বুধবার দুপুর ১২টার প্রাণঘাতী বিপর্যয় পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিল! গোডাউন ভেঙে তিন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকলেও কোনো এক জাদুবলে বেঁচে গিয়েছেন ষাটোর্ধ্ব বাবা ও তাঁর দুই ছেলে। তিন ছেলের নিথর দেহ নিয়ে আজ, রবিবার বিহারের পথে রওনা দেবে কুমার পরিবার। 

    পরিবারের সবচেয়ে ছোটো ছেলের নাম ঘি কুমার (১৭)। তাঁর চেয়ে দু’বছরের বড়ো মন্নু কুমার (১৯)। বুধবারই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই ভাইয়ের দেহ উদ্ধার হয়। সেদিনই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বৃদ্ধের আরও দুই পুত্র শহিদ কুমার ও মানিকচাঁদ কুমারকে। তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার শহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসার পর শনিবার ছাড়া হয় মানিকচাঁদকে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, শহিদ কুমারকে সহজে উদ্ধার করা গেলেও মানিকচাঁদকে খুঁজে পাওয়া যায় প্রযুক্তির সহায়তায়। তিনি ভগ্নস্তূপের নীচে এমনভাবে আটকে পড়েছিলেন যে কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না। কিন্তু তাঁর মোবাইল ফোনটি অক্ষত ছিল। সেই ফোনের সাহায্যে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে একটি ভিডিয়ো করে তাঁর জামাইবাবুকে পাঠান মানিক। পিজি হাসপাতালে সেই জামাইবাবু বলেন, ‘বজরংবলীকে স্মরণ করে একটি ভিডিয়ো তুলে আমাকে পাঠিয়েছিল। তখন আমরা নিশ্চিত হই যে ও জীবিত অবস্থায় আটকে রয়েছে। ভিডিয়োটি আমরা পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে দিই। ওঁরা মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে মানিকচাঁদকে উদ্ধার করেন।’ 

    পরিবারের পাঁচজনের হদিশ মিললেও শিরচন কুমার (৩০) কোথায়? ইতিমধ্যে লালবাজার জানায়, তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার এসএসকেএমের মর্গে গিয়ে সেই দু’জনের দেহ দেখার জন্য অনুরোধ করা হয় রাজেন্দ্র কুমারদের। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দু’জনের মুখ ও শরীরের একাধিক অঙ্গ থেঁতলে গিয়েছে। তাই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। দু’টি দেহের মধ্য থেকে ভাইকে চিনতে পারেন শহিদ ও মানিকচাঁদ। শিরচনের জন্মদিনে উপহার পাওয়া মোবাইল ফোন দেখে তাঁরা ভাইকে চিহ্নিত করেন। 

    উল্লেখ্য, শনিবারই মৃত ১৬ জনের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে এদিনও উদ্ধারকাজ চলে। থার্মাল স্ক্যানিং করে দেখা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপে আর কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না। এদিন ঘটনাস্থল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। তা থেকে মনে করা হচ্ছে, এখনও মৃত অবস্থায় চাপা পড়ে থাকতে পারেন কেউ। অন্যদিকে, এদিন ঘটনাস্থলে যান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার প্রতিনিধি। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)