নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে মিলেছে বিপুল ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ বা দুর্লভ খনিজ পদার্থের ভাণ্ডার! পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেই ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন ভূতত্ত্ববিদরা, যার খনন হলে একলাফে অনেকটাই বাড়বে রাজ্যের রাজস্ব। একইসঙ্গে হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানও। সেই লক্ষ্যেই এবার এই দুই জেলার একাধিক জায়গায় ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ খননের জন্য নিলাম ডাকার আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নয়া বিজেপি সরকার।
মোবাইল-কম্পিউটার থেকে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিন যানবাহন, জেট ইঞ্জিন তৈরিতেই এখন অপরিহার্য এই বিরল খনিজ পদার্থগুলি। বিশ্বের সেই ভাণ্ডার দখলের জন্য দৌড়ে বেড়াচ্ছে আমেরিকা থেকে চীনের মতো সমস্ত উন্নত দেশ। ‘রেয়ার আর্থ মাইনিং’য়ের ক্ষেত্রে ভারতে নজরে রয়েছে ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু। ভারত সরকার নিলামের ছাড়পত্র দিলেই এবার সেই ‘রেয়ার আর্থ ক্লাবে’ প্রবেশ করবে পশ্চিমবঙ্গও। ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম বাজেটেই রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খনিজ পদার্থের সঠিক মূল্যায়ন এবং খননের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তারপরেই জিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রদত্ত তথ্যের উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট এলাকায় খননের কাজের বরাদ্দ (ওপেন কাস্ট মাইনিং) দিতে নিলামের ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হচ্ছে কেন্দ্রের কাছে। তেমনই খবর প্রশাসনিক সূত্রে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে, শুধুমাত্র পুরুলিয়ার কালাপাথর-রঘুডি ব্লকেই ৬.৭ লক্ষ টন রেয়ার অর্থ মিনারেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়ার উকমা, বরাবাজার সহ বেশ কিছু এলাকায় এই বিরল খনিজের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। একই কারণে রাজ্যের নজরে রয়েছে বাঁকুড়ার রতনপুর এলাকাও। সরকারের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। নিলাম সহ বাকি সব কিছু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হলে আগামী কিছু বছরের মধ্যেই সফল খননের ফল পেতে শুরু করবে বাংলা। শুধু ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ নয়, মূল্যবান লিথিয়াম এবং পটাশিয়াম পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ফলে এবার আর খনিজ খাতে রাজস্ব আদায়ে শুধু কয়লা, বালি আর পাথরের (ব্ল্যাকস্টোন) উপর নির্ভর করতে হবে না নবান্নকে। বিগত অর্থবর্ষে খনিজ পদার্থ বাবদ রাজ্যের আদায় হয়েছিল ১২০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ২০০ কোটি বেশি। একবার পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ খনন শুরু হলে এই অঙ্ক বহুগুণ বাড়বে বলেই নিশ্চিত রাজ্য প্রশাসন।