নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাটি জট কাটতেই কুমোরটুলিজুড়ে দুর্গাপ্রতিমার বায়না শুরু হয়ে গেল। পটুয়াপাড়া সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ছোট‑বড় মিলিয়ে ৮০টির উপর দুর্গাপ্রতিমার বায়না হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ির একচালার দুর্গাপ্রতিমাও। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের অন্যতম কর্তা বাবু পালের আশা, রথের দিনেও বেশ কিছু দুর্গাপ্রতিমার বরাত মিলবে। প্রতিবছরই কিছু বাড়ি এবং সর্বজনীন পুজো কমিটি কাঠামো পুজো করে সেই কাঠামো কুমোরটুলিতে বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে দিয়ে বায়না করে যান প্রতিমার। কুমোরটুলির প্রবীণ শোলা শিল্পী শম্ভুনাথ মালাকার শনিবার বলেন, একটা সময় গরান গাছের কাঠ পুজো করে তা পটুয়াপাড়ায় দিয়ে যেতেন অনেকেই। দুর্গার কাঠামোর উপর সেই কাঠ বিছিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন গরান গাছের কাঠ অমিল। তাই আম, জাম, জারুল প্রভৃতি গাছের কাঠ দিয়ে কাঠামো পুজো হয়ে থাকে বিভিন্ন বাড়ির পুজোগুলিতে।
এদিন কুমোরটুলির বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে গিয়ে দেখা গেল, চলছে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজকর্ম। রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট, বনমালী সরকার স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোথাও কোথাও দুর্গাপ্রতিমার কাঠামোতে পড়ছে মাটির প্রলেপ। শিল্পী রাজা পাল বলেন, এখনও পর্যন্ত চারটি দুর্গাপ্রতিমার বায়না পেয়েছি। যেহেতু মাটি সমস্যা কেটে গিয়েছে, তাই আশা করছি এবার ধীরে ধীরে প্রতিমা তৈরির বায়না বাড়বে। আমরাও কাজকর্ম জোরকদমে শুরু করে দিয়েছি।
শিল্পী চায়না পাল বলেন, গত এক সপ্তাহে তিনটি একচালার দুর্গাপ্রতিমার বায়না পেয়েছি। অন্যবার যারা প্রতিমার বায়না দিয়ে থাকেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এসে খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। কেউ কেউ সোমবার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন এসে বায়না করবেন বলে জানিয়েছেন। শিল্পী বরুণ পাল, সমীর পাল, তপন পালরা বলেন, মাটি সমস্যার জেরে কাজকর্ম ঠিক মতো হচ্ছিল না। এখন সমস্যা মিটেছে, দুর্গাপ্রতিমার তৈরির কাজকর্মেও গতি এসেছে। -নিজস্ব চিত্র