ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের ইতিহাস বদলালেন হ্যারি কেন, টপকালেন রোনাল্দোকে, সামনে এখন পেলে
এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন অনেক দিন ধরেই, পানামার (Panama) বিরুদ্ধে এক হেডারে সেই দরজাও খুলে ফেললেন হ্যারি কেন (Harry Kane)। বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি গোল, আর তাতেই ইংল্যান্ডের (England) ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম। বহু বছর ধরে অটুট থাকা রেকর্ড ভেঙে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়ে উঠলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তবে এই গল্প শুধু একটি রেকর্ডের নয়। এটি এমন এক ফুটবলারের গল্প, যিনি প্রতিটি বড় আসরে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে চলেছেন। নকআউট পর্বের আগে কেনের গোল যেন ইংল্যান্ডকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে— সেই বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি কি এ বার সত্যিই ঘরে ফিরবে?
লিনেকারকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় কেন
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের (Jude Bellingham) দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন কেন। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জয়, আর তৈরি হয় নতুন ইতিহাস।
এর আগে বিশ্বকাপে ১০ গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড যৌথ ভাবে ধরে রেখেছিলেন গ্যারি লিনেকার (Gary Lineker) ও কেন। ১৯৮৬ এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপে লিনেকারের করা মোট ১০ গোল দীর্ঘদিন ধরে ছিল ইংল্যান্ডের মানদণ্ড। কিন্তু তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই সেই রেকর্ড ভেঙে একক ভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন কেন।
বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর ১১তম গোল। এর ফলে তিনি ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো (Cristiano Ronaldo) এবং গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার (Gabriel Batistuta) গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন। এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন মাত্র ছ’জন ফুটবলার। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের (Pele) ১২ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
শিরোপার স্বপ্নে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র
৩২ বছর বয়সী কেন নিজের কেরিয়ারের সেরা সময়গুলোর একটি পার করছেন। তাঁর নেতৃত্বে বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich) জিতেছে জোড়া শিরোপা। পাশাপাশি টানা তৃতীয় বারের মতো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে। এর আগে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচেও দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছিলেন কেন। প্রথমার্ধে কোনও দল গোল করতে না পারলেও ৬২ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম জট খুলে দেন। পাঁচ মিনিট পর কেনের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সেই জয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড।
এখন কেনের সামনে আর একটি বড় মাইলফলক হাতছানি দিচ্ছে। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা। আর ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আশা, অধিনায়কের এই দুর্দান্ত গোলের ধার নকআউট পর্বেও অব্যাহত থাকবে এবং সেটিই হয়তো দলকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপার আরও কাছে নিয়ে যাবে।