• মণিকাকে খুনের পরে শ্যালিকাকে মেসেজ দীপঙ্করের, রিষড়া কাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • স্ত্রীকে খুন করে শ্যালিকাকে ফেসবুকে মেসেজ করেছিলেন রিষড়ার দীপঙ্কর সরকার। মণিকা খুনে এ বার তেমনটাই জানালেন মণিকার বাবা মণীন্দ্র ওঝা। সেখান থেকেই মেয়ের খবর জানতে পারেন তাঁরা। রিষড়ার দীপঙ্কর সরকার (৩৮) ও মণিকা ওঝা সরকার (৩২)। শনিবার মণিকার গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয় বেড রুম থেকে। দীপঙ্কর বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ মেরে আত্মঘাতী হন। পরে জানা যায়, স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দেন দীপঙ্কর। অভিযোগ, দীপঙ্কর সন্দেহ করতেন, স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক আছে।

    রিষড়া থানার নতুনগ্রাম বারো হাত কালীতলা। সেখানেই মণিকা-দীপঙ্করের ভাড়া বাড়ি। মণিকা মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। দীপঙ্কর কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন। শুক্রবারই রিষড়ায় যান। শনিবার এই ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের পরে দিল্লি চলে যান দীপঙ্কর। সেখানে হোটেলে চাকরি করতেন। মণিকা স্থানীয় একটি কারখানায় সেলাইয়ের কাজ করতেন।

    মণিকার বাবা মণীন্দ্র ওঝা বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে। বড় মণিকা। মণিকাকে খুন করে আমার ছোট মেয়েকে শনিবার সকালে ফেসবুকে মেসেজ করে জামাই। লেখে, মণিকাকে খুন করেছে। ছোট মেয়ে মধ্যপ্রদেশে থাকে। এই মেসেজ দেখে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোন করে। গিয়ে দেখি এই অবস্থা। যে দোষী তাকে যে শাস্তি দিতে বলব, সে রাস্তাও খোলা রইল না। জামাইও মেট্রোর লাইনে আত্মহত্যা করেছে।’

    প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে মণিকা ও দীপঙ্করের মধ্যে ঝামেলা হয়। বাইরের লোকজন সে অশান্তি টের পেয়েছিল। স্বামী-স্ত্রী চিৎকার করছিলেন। তবে শনিবার সকাল থেকে সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এর পরেই পড়শিরা ঘরের দরজা ঠেলে ঢুকে দেখেন বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে মণিকা, পাশে তিন বছরের মেয়ে ঘুমোচ্ছে। আপাতত ওই শিশুর ঠাঁই হয়েছে দিদার বাড়িতে।

    পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মণিকার সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক আছে এই সন্দেহের বশে স্ত্রীকে মধ্যরাতে শ্বাসরোধ করে খুন করেন দীপঙ্কর। তার পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলার ধারাল ছুরির কোপ বসান।

    রিষড়ারই মেয়ে মণিকা। ২০২১ সালে ফেসবুকে দীপঙ্করের সঙ্গে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম, বিয়ে। দীপঙ্করের বাবা, মা মারা গিয়েছেন আগেই। দীপঙ্কর দিল্লিতে মোটামুটি ভালো মাইনেরই কাজ করতেন। বছরে দু’বার রিষড়ায় আসতেন।

    মণিকার বাবা মণীন্দ্র ওঝা জানান, শুক্রবার দিল্লি থেকে রিষড়ার বাড়িতে আসেন দীপঙ্কর। শাশুড়িকে ফোন করে তাঁদের বাড়িতে আসতে বলেন। সন্ধেয় শাশুড়ি এসে দেখেন বাড়িতে তালা দেওয়া। মণিকাকে ফোন করলে মাকে জানান, একটা কাজে বাইরে এসেছেন। শনিবার সকালে যেন আসেন। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, ভাবতেই পারছেন না মণিকার বাবা, মা।

    মণিকার মা নমিতা ওঝা বলেন, ‘দীপঙ্কর দিল্লি থেকে ফিরে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ফোন করে আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছিল। আমি সন্ধেয় গিয়ে ওদের দেখা পাইনি। আমার মেয়েকে এমন ভাবে খুন করা হবে সেটা আমি ভাবতেও পারিনি। মেয়ে হারানোর শোক। তার উপরে একরত্তি বাচ্চাটার কী হবে, ভাবতেই পারছি না।’

  • Link to this news (এই সময়)