মনিরুল হক: সকাল থেকেই বৃষ্টি। থামার নাম নেই। তার মধ্যেই ধীরে ধীরে জলের তলায় চলে গেল রাজার শহর। কোচবিহারের একাধিক রাস্তা, মোড়, বাজার ও নিচু এলাকা রবিবার জলমগ্ন। কোথাও হাঁটু, কোথাও তারও বেশি জল। রাস্তার সঙ্গে নর্দমার ফারাক মুছে গিয়েছে। ব্যাহত যান চলাচল। চরম ভোগান্তিতে অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী, পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথে জল জমায় যানবাহন চলাচল কার্যত ধীর হয়ে পড়ে। ছোট গাড়ির চালকেরা অনেকেই জল ঠেলে এগোতে বাধ্য হন। মোটরবাইক আরোহীদের একাংশ মাঝরাস্তায় গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন। রিকশা ও টোটোচালকদেরও অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে চলতে দেখা যায়। জল জমে যাওয়ায় একাধিক এলাকায় দোকানে ক্রেতার আনাগোনাও কমে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সকাল থেকেই বেচাকেনায় প্রভাব পড়েছে।
শুধু রাস্তা নয়, শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় বাড়ির উঠোনেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। কোথাও নর্দমার জল উপচে রাস্তায় মিশেছে। কোথাও আবার বৃষ্টির জল বেরোনোর পথ না থাকায় দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই ছবি দেখা যায়। সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের।
রবিবারও সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত। এর জেরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রভাব কোচবিহারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। ফলে শহরের জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি নদ-নদীর জলস্তরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের আশঙ্কা।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। জল জমা এলাকাগুলিতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাসিন্দাদেরও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও জলমগ্ন রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতার আবেদন জানানো হয়েছে।
বর্ষার প্রথম দফার বৃষ্টিতেই কার্যত নাজেহাল কোচবিহার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস যদি মিলে যায়, তবে আগামী কয়েক দিন শহরের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। রাজবাড়ির শহর এখন বৃষ্টির শব্দে নয়, অপেক্ষায় আর কতটা জল নামলে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কোচবিহার।