কলকাতায় জল জমার কারণ পুরোনো নিকাশি, জানালেন সেচমন্ত্রী
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ জুন ২০২৬
বর্ষার শুরুতেই কলকাতা পুরসভার একাধিক অংশে জল জমার সমস্যা প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুললেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস। জানান, মহানগরের দীর্ঘদিনের জল জমার মূল কারণ পুরোনো নিকাশি ব্যবস্থা ও নাগরিকদের একাংশের সচেতনতার অভাব। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ দফতর ও কলকাতা পুরসভা কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন।
কলকাতা পুরসভা থেকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পরে কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। তারই মধ্যে এই জল সমস্যা নিয়ে কাজ কররতে হচ্ছে তাদের। আর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সেচমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কলকাতা বর্তমান নিকাশি ব্যবস্থার মূল কাঠামো তৈরি হয়েছিল ১৯৩০ সালের দিকে। সেই সময়কার জনবসতি, শহরের কথা মাথায় রেখে। সেইমত পাইপলা্ইন বসানো হয়েছিল। যার সঙ্গে আজকের কলকাতার কোনো মিল নেই। গত কয়েক দশকে জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি হলেও নিকাশি ব্যবস্থার মূল কাঠামো একই থেকে গেছে। তাই অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টি হলে সেই জল বের করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়েছে।
উদাহরণ হিসাবে তিনি গত বছরের দুর্গাপুজোর সময়ের একটি ঘটনার কথা বলেছেন। জানান, এক রাতে ৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। এত পরিমাণ জল দ্রুত বের করা যায়নি বলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে গিয়েছিল। তাঁর মতে, জল নামার ক্ষেত্রে শুধু খাল বা পাম্পিং স্টেশনের ক্ষমতা নয়, গোটা নিকাশি ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আদিগঙ্গা ও শহরতলির খালগুলি নিয়েও মন্তব্য করেন সেচমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আদিগঙ্গার সোনারপুর সংলগ্ন একটি অংশ সেচ দফতরের অধীনে নেই। তা কলকাতা পুরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আদিগঙ্গার বাকি অংশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত ড্রেজিং সেচ দফতরই করে।’ পাশাপাশি বাগজোলা খাল-সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলিও পরিষ্কার করা হচ্ছে। যদিও বর্ষাকালে নতুন করে ড্রেজিংয়ের কাজ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। আগামী বছর আবার বৃহত্তর পরিসরে সেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জল জমার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে তিনি মানুষের সচেতনতার অভাবকে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘খাল পর্যন্ত জল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার, আর খাল ও জলনিকাশি চ্যানেলগুলিকে সচল রাখার দায়িত্ব সেচ দফতরের। বর্তমানে পুরসভায় নির্বাচিত কাউন্সিলর বোর্ড না থাকলেও প্রশাসনিক স্তরে দুই দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখেই কাজ চলছে।’ শহরবাসীর স্বার্থে জল জমার সমস্যা কমাতে সরকার সব রকম ভাবে উদ্যোগী হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।