• ‘ডিম থেরাপি’র পর উধাও! বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার শওকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
    প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
  • বেশ কয়েকদিন আগেই চলেছিল ‘ডিম থেরাপি’। তাঁকে দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত জনতা নাকি বেধড়ক মারধরও করেছিল। তারপর থেকেই কার্যত উবে গিয়েছিল। এলাকার তাঁর টিকিও দেখা যায়নি বেশ কয়েকদিন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট পরবর্তী অশান্তিতে নাম জড়িয়েছিল ভাঙ্গড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খয়রুল ইসলামের। ওই ব্যক্তি এলাকায় শওকত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রবিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকা থেকে ভাঙড় ডিভিশনের অন্তর্গত উত্তর কাশীপুর ও বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ে অশান্তির মামলায় অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল খয়রুলের। অভিযোগ, ভাঙড়ের চকুয়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল পাহাড়ি নামে এক আইএসএফ কর্মী খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় তাঁর। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই খয়রুলের খোঁজে তল্লাশি চালায় পুলিশ। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই খয়রুল ইসলামকে লক্ষ্য করে ‘ডিম থেরাপি’ ও মারধর করা ক্ষিপ্ত জনতা। এরপর থেকে গা ঢাকা দেয় সে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুলিশের চিরুনি তল্লাশি থেকে ছাড় পায়নি তেইশের অশান্তি মামলায় অভিযুক্ত খয়রুল। খুনের ঘটনায় আরও কারা যুক্ত, নেপথ্যে কার হাত ছিল, শওকত ঘনিষ্ঠ নেতার কাছ থেকে উত্তর চায় তদন্তকারীরা। কেন ভাঙড় ছেড়ে বহরমপুরে, তাহলে কি পালানোর ছক কষা চলছিল? রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে জি়জ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৬ তারিখ এনআইএর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শওকত মোল্লাও। দু’দিন পলাতক থাকার পর সোনারপুরের কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নাম উঠে আসে শওকত মোল্লার।  এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় শওকত ঘনিষ্ঠ শামসুলকেও। এবার ভাঙড়েরই অন্য আরেকটি খুনের ঘটনায় আরও এক শওকত ঘনিষ্ঠকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা’র হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, তা যে শুধু কথার কথা নয়, তা কাজে করে দেখাচ্ছে প্রশাসন। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)