• হরমুজ সংকট সামলে কন্টেনারে ডিজেল কেনায় উঠল নিষেধাজ্ঞা, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের
    প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
  • কন্টেনারে ডিজেল কিনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর নিষেধাজ্ঞা থাকল না। বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রনালী বন্ধ ছিল একসময়। তেল আসার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। জ্বালানি সংকট যাতে না হয়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ যাতে বেশি তেল কিনতে না পারেন, সেজন্য কন্টেনার, পাত্রে তেল কেনা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এবার সেই নিষেধ কিছুটা শিথিল হল পশ্চিমবঙ্গে। এদিন এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে বার্তাও দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয়তা, জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে যাতে কোনও বাধা না থাকে, তাই এই সিদ্ধান্ত। তেমনই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি বিভাগের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, তাঁরা এই ছাড় পাচ্ছেন। এমনই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতে জ্বালানির জোগান নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করে কেন্দ্র। কোনও পাত্রে ডিজেল কেনা যাবে না। সেই নির্দেশ জারি করা হয়। তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকে দিনে কতটা জ্বালানি নেওয়া যাবে? সেই সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। এদিন বাংলায় সেই নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হল। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এদিন ছাড় দেওয়া হল। চা বাগানের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

    এদিন শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়েছেন, “আমাদের সরকার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতি কোনও বাধা ছাড়াই যেন সুচারুভাবে এগোতে থাকে তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক কন্টেনারে (পাত্রে) ডিজেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে আমাদের পরিশ্রমী কৃষক ভাইরা, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। জনসাধারণের স্বার্থরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেছে। আমরা প্রধান তেল কোম্পানিগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা এবং চা বাগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে জ্বালানির বিধিনিষেধের আওতা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    শুধু তাই নয়, তিনি আরও লিখেছেন, “এই সমস্ত জরুরি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও গ্রাহকরা এখন থেকে কন্টেইনার বা ব্যারেলে সহজেই ডিজেল কিনে নিয়ে যেতে পারবেন এবং প্রতিদিন এই সকল গ্রাহকদের জ্বালানি প্রদানের ক্ষেত্রে যে সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল তাও শিথিল করা হয়েছে। নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে ডিজেল পাওয়ার জন্য পাম্পগুলোতে শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিচয়ের নথিপত্র দেখালেই চলবে।” সাম্প্রতিক কালে পেট্রল পাম্পগুলিতে জ্বালানি পাত্রে কিনে নিয়ে যাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এবার ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল রাজ্য রাজ্য সরকার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)