সোমেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল! শুভেন্দু শিবিরের বিরুদ্ধে কোন পথে ঋতব্রত ও কালীঘাট তৃণমূল?
প্রতিদিন | ২৮ জুন ২০২৬
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) সংক্রান্ত বিল সোমবারই আসতে পারে রাজ্য বিধানসভায়! সেই বিষয়ে জোর চর্চা চলছে। সরকারপক্ষ যদি ওই বিল নিয়ে আসে, তাহলে যথাযথ আলোচনা প্রয়োজন বলে দাবি বিরোধীদের। এক্ষেত্রে বিধানসভায় এখন তৃণমূলের দুই শিবির। ঋতব্রত ও কালীঘাট শিবির দু’পক্ষই এক্ষেত্রে বিলের সরাসরি বিরোধিতার পথে হাঁটবে, সেই সম্ভাবনা প্রবল। তবে কি ইউসিসি বিরোধিতার সোমবার ঝড় উঠতে চলেছে বিধানসভায়? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
‘আসল’ তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইউসিসি তো বটেই ‘গুন্ডাদমন বিল’-সহ আরও যে সব বিল আসবে, সবক’টিরই বিরোধিতা করা হবে। এদিকে বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে ইউসিসি বিল সম্ভবত অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে পেশ হতে পারে। যদি তা শেষপর্যন্ত পেশ হয়, তাহলে বিরোধী দলনেতা-সহ অন্যান্যদের বক্তব্য রাখার জন্য সময় বরাদ্দ হবে।
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলও সোমবার বিধানসভায় বিরোধিতার জন্য প্রস্তুত বলে খবর। তাঁদের তরফে নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখবেন। ওই শিবির থেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও বক্তব্য রাখতে পারেন। সোমবার আসা বিলগুলির বিপক্ষেই বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে জোর সওয়াল হবে, তা সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দুই তৃণমূল শিবিরের তরফে।বিধানসভার অন্দরের খবর, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিলের উপর বক্তব্য রাখবেন, সেই সময়ও নির্ধারিত হয়ে রয়েছে ইতিমধ্যেই। বিরোধী দলনেতা-সহ অন্যান্যদের বক্তব্যের সময়সীমাও ধার্য হয়েছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি গোটা ভারতবর্ষে এখনও পর্যন্ত অসম, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট – এই তিন রাজ্যে আইন আকারে লাগু হয়েছে। বিজেপিশাসিত নতুন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও এবার এই বিল পেশ হতে চলেছে। সরকারপক্ষ একে আইনে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। তবে শুভেন্দু শিবিরের অনুমান, বিধানসভায় বিলটি এলে বিরোধীরা তাৎক্ষণিক বিরোধিতা করবেন। সেই বিরোধিতা মোকাবিলার জন্যও সরকারপক্ষ তৈরি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অসম, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট তিন রাজ্য থেকে ইউসিসির কপি বৃহস্পতিবারই বাংলায় আনানো হয়েছে। কোন কোন বিষয়ে বিরোধিতা হতে পারে, সেগুলি আইন দপ্তরে আলোচনা হয়েছে। সেইসব প্রশ্নের যথাযথ জবাবও ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তিন রাজ্যের এই আইনের প্রত্যেকটি অংশ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধানসভায় এই বিল পেশ করার আগে রাজ্যের নিরিখে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে বলে খবর। এদিকে ঋতব্রত শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, বিল সংক্রান্ত সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যান্য তিন রাজ্যে ইউসিসি ইস্যুতে কোন কোন খামতি ছিল, বিরোধিরা কী কী সওয়াল তুলেছিলেন, সেদিকে নজর।শুধু তাই নয়, বাংলার সংখ্যালঘুদের স্বার্থে এই বিল সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক বিরোধিতা কেমনভাবে হবে? তার রোডম্যাপও প্রায় তৈরি বলে ঋতব্রত শিবিরের অন্দরের খবর।
অভিন্ন দেওয়ানি বিল আইনে পরিণত হলে রাজ্যে বসবাসকারী সকল ধর্মাবলম্বীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সেটাই বিলের মূল উদ্দেশ্য। তবে ব্যতিক্রম আদিবাসী সমাজ। মুসলমান ছাড়াও রাজ্যের জৈন, শিখ, খ্রিষ্টানদের উপর এই বিলের কেমন প্রভাব হবে, সেই বিষয়ও সরকারপক্ষ খতিয়ে দেখেছে। বিলটি পেশ হলে তা নিয়ে বিধানসভায় বিশদে আলোচনা হতে পারে। প্রতি রাজ্যের বিধানসভায় একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি থাকে। বিল সংক্রান্ত আলোচনা ওই কমিটিতে হয়। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর এখনও ওই স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হয়নি। সেজন্য বিধানসভায় আলাদা করে এই বিল সংক্রান্ত আলোচনার জন্য কমিটি গঠিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কমিটির মাথায় থাকবেন। সেই কথাও প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছে। তবে প্রস্তুতি ষোল আনা হয়ে গেলেও সোমেই এই বিল আসবে কিনা, তা এখন জোর চর্চা।