• মন কি বাতে মোদীর মুখে কলকাতার কথা, সঙ্কটকালে সাড়া দেওয়ায় ধন্যবাদও জানালেন দেশবাসীকে
    এই সময় | ২৮ জুন ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্কটকালে জ্বালানি সাশ্রয় এবং আপাতত সোনা কেনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই আহ্বানে দেশবাসী সাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়ে মন কি বাতে তাঁদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী। কথায় কথায় মোদীর মুখে উঠে এল কলকাতার কথাও।

    রবিবার মন কি বাতের ১৩৫তম পর্ব ছিল। সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশবাসীর কাছে কিছু আর্জি জানিয়েছিলাম। আমি কৃতজ্ঞ যে, সকলে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা সক্রিয় ভাবে সহযোগিতাও করেছেন। অনেক পরিবার এ বার বিয়ের মরশুমেও সোনা কেনেননি।’ সকল ভারতবাসী হাতে হাত মিলিয়ে সঙ্কটের মোকাবিলা করেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথা শুনে অনেকে বিদেশ ভ্রমণও বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    দেশের নিরাপত্তা এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার কথা বলতে গিয়ে সাম্প্রতিক কলকাতা সফরের প্রসঙ্গও টানেন মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে যোগাভ্যাসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর থেকে তিন রণতরী নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়। মন কি বাতে মোদী বলেন, ‘এই জাহাজগুলির নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ—সবটাই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্র নতুন গতি পাচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করছে।’ ডিআরডিও চলতি মাসে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি দূরপাল্লার ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইলের যে পরীক্ষা চালিয়েছে, তা-ও সফল হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, যে তিন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী, সেগুলি হল আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক। আইএনএস দুনাগিরি—অত্যাধুনিক স্টেল্‌থ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফাইটার ফ্রিগেট, যা রেডারকে ফাঁকি দিয়ে শত্রুর উপর নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। আইএনএস সংশোধক—সমুদ্রের অতল গভীরে নিখুঁত নজরদারি চালাতে সক্ষম বিশালাকার সার্ভে ভেসেল বা লার্জ সার্ভে জাহাজ। আইএনএস অগ্রয়— সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ যা সমুদ্রের নীচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর ডুবোজাহাজ নিমেষেই ধ্বংস করতে পারে। এই তিন রণতরীর উদ্বোধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এ ছাড়াও নৌ এবং বায়ুসেনার আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন এই কর্মসূচিতে।

  • Link to this news (এই সময়)