অপরাধ বিজ্ঞান বলে অপরাধী একবার অন্তত ফিরে আসে অপরাধস্থলে। রবিবার ভোরে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে হবু বরকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকেও দেখা গেল পুনের লোহাগড় দুর্গে। যেখান তিনি তাঁর হবু বরকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। আবার ঠেলে ফেললেন তিনি। তবে কোনও মানুষকে নয়, মানুষ-সম একটি পুতুলকে। তবে নিজে নিজে অকুস্থলে ফিরে আসেননি সিয়া। রবিবার ভোরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছিল পুনে গ্রামীণ পুলিশ। যারা এই ঘটনার তদন্ত করছে।
সংবাদসংস্থা PTI সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিয়া গোয়েলকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে আসে পুনে গ্রামীণ পুলিশ। উদ্দেশ্য একটাই— ১৮ জুন ঠিক কী ঘটেছিল, তার সঠিক সিকোয়েন্স বা ঘটনার পর্যায়ক্রম পুনর্নির্মাণ করা। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। সেই সময়ে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ।
ঘটনার দিন কেতনকে কী ভাবে ধাক্কা দিয়ে গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা বুঝতে এ দিন একটি mannequin বা পুতুল ব্যবহার করা হয়। সেটিকে একই ভাবে খাদে ফেলে দেন সিয়া।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের আগেই নাকি এই দুর্গে একই ভাবে মহড়া দিয়েছিলেন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী। পুলিশের দাবি, অপরাধের এই নক্শা বাস্তবায়িত করার আগে তাঁরা ইউটিউব ও গুগল সার্চ করে হত্যার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পরর্কে খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই দুর্গের পাহাড় থেকে নীচে ফেলে দেওয়াই খুনের নিরাপদ পথ বলে মনে করেছিলেন তাঁরা।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের SP সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের শহ্গে সহযোগিতা করছে। সিয়া গোয়েলের পাশাপাশি খুব শিগগিরই অপর অভিযুক্ত চেতন চৌধরীকেও আলাদা ভাবে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তাঁর বয়ান ধরেও ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে।
আসলে বর্তমানে সিয়া ও চেতনের বয়ান মিলছে না। তাঁরা একে অন্যকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করছেন। দোষারোপের খেলা চলছে। সেই কারণেই এখন অভিযুক্তদের জবানবন্দির সঙ্গে বাস্তবের ঘটনার কতটা মিল রয়েছে, তা যাচাই করতে অভিযুক্তদের এক এক করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই সকল তথ্যই মামলার নথী হিসেবে আদালতে পেশ করা হতে পারে।