• শিশুদের প্রলোভনমুক্ত করতে পরামর্শ মিশনের মহারাজের
    আজকাল | ২৯ জুন ২০২৬
  • বিভাস ভট্টাচার্য: সন্তান চাইলেই তাদের হাতে বায়না করার জিনিস তুলে দেবেন না। জীবনে অভাবটাও বুঝতে দিন। ওদের হাতে মোবাইল ফোন নয়। তুলে দিন রামায়ণ, মহাভারত বা ঠাকুরমার ঝুলির মতো বই। মনে রাখতে হবে, জীবনের চরিত্র গঠনের ভিত কিন্তু শিশু বয়স থেকেই তৈরি হয়। বর্তমান জেট যুগ এবং সেখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে সন্তানকে বড় করা উচিত সেই প্রসঙ্গে একথা জানিয়েছেন মাহেশ শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম-এর সেক্রেটারি মহারাজ স্বামী শিবেশানন্দ। 

    ব্যস্ত সময় এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ব্যস্ত শিশুদের বাবা-মা বা অভিভাবকরাও। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় সন্তান কথা শুনছে না বা দুষ্টুমি করছে তখন তাকে এক জায়গায় বসিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা বেছে নেন মোবাইল ফোনকে। চালিয়ে দেন কার্টুন। যা নিয়ে বলতে গিয়ে স্বামী শিবেশানন্দ জানিয়েছেন, "শিশু মন কার্টুন দেখলে চঞ্চল হয়ে উঠতে পারে। এর খুব একটা বেশি 'পজিটিভ' দিক নেই। আগে শিশুদের হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়ার একটা চল ছিল। যার থেকে তারা নৈতিক শিক্ষা পেত। ঠাকুরমার ঝুলি, রামায়ণ বা মহাভারত-এর মতো বইগুলি ছিল যার উদাহরণ। কার্টুনের মধ্যে কোথাও কোথাও লুকিয়ে থাকে একটা বৈদেশিক ভাবনা। এর থেকে যে শিক্ষাটা শিশুরা পায় তার কিন্তু খুব একটা পজিটিভ দিক নেই। কাজের কাজ বলতে গেলে সেভাবে কিছু হয় না। হ্যাঁ, কখনও কখনও একটু আধটু দেখা যেতেই পারে। কিন্তু এটা যদি নেশায় দাঁড়িয়ে যায় তবে কিন্তু একটা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে পড়াশোনার দিক থেকে মন সরে যায়। আর এটা শুধু শিশু নয়, পড়ুয়াদের সকলের ক্ষেত্রেই কিন্তু এই কথা প্রযোজ্য।" 

    মিশনের তরফে ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামীদিনে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এ বিষয়ে স্বামী শিবেশানন্দ জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে ইংরেজি মাধ্যমের দিকে অভিভাবকদের ঝোঁক বেড়েছে। কারণ, পড়ুয়াদের জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আশ্রমের যে ট্রাস্ট রয়েছে তার তত্বাবধানে একটি ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড-এ থাকবে এবং অপরটি সিবিএসসি বোর্ড-এ থাকবে। একেবারে নার্সারি পর্যায় থেকেই এই ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু করা হবে।"

    এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আলাদা করে স্কুল খোলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন সেক্রেটারি মহারাজ। এই মুহূর্তে মাহেশ শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে নার্সারি পর্যায় থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে। যাতে তারা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এই মিশনের তত্ত্বাবধানেই লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য হুগলির বামুনারিতে একটি স্কুল চালু হতে চলেছে। 

    সেক্রেটারি মহারাজ জানিয়েছেন, যেহেতু মাহেশে তাদের জায়গা সীমিত সেজন্যই বামুনারিতে ওই স্কুলটি চালু হবে। আপাতত সেখানে পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে লেখাপড়া চালু করার মতো পরিকাঠামো রয়েছে। জায়গাটা আরও বাড়িয়ে এবং পরিকাঠামো সম্পূর্ণ করে ওই স্কুলটি চালু করা হবে। নাম দেওয়া হয়েছে মাহেশ শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম সারদা বিদ্যালয়। স্কুলে যাতায়াতের জন্য ডানকুনি থেকে বৈদ্যবাটি এবং উত্তরপাড়া বা শ্রীরামপুর থেকেও বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মিশনের তরফ থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে নেওয়া হবে বলে তিনি বলেন।
  • Link to this news (আজকাল)