• হুমায়ুনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা
    আজকাল | ২৯ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-২ নম্বর ব্লকের কাশিপুর এলাকায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিপাকে পড়তে পারেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা দলের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। 

    মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক থানা ছাড়াও রাজ্যের আরও কয়েকটি থানায় বিজেপি দল এবং তাদের যুব মোর্চার তরফ থেকে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। 

    মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন ,নওদার বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। সমস্ত থানায় 'জিরো এফআইআর' রুজু করা হচ্ছে। যেহেতু হুমায়ুন কবীর এই বিতর্কিত বক্তব্য রেজিনগর থানার কাশিপুর এলাকায় রেখেছিলেন, তাই রেজিনগর থানা বিধায়কের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর তদন্ত করবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রেজিনগরের কাশিপুরের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর, ভরতপুরের বিজেপির পরাজিত প্রার্থী অনামিকা ঘোষের নাম নিয়ে এবং রেজিনগরে বিজেপির কিছু কার্যকলাপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছিলেন -ভোটে হেরেও এরা মনে করছে যেন এমএলএ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নাম করে আরও বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন নওদার বিধায়ক। 

    হুমায়ুনের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের পরই শনিবার রাতে বিজেপির যুব মোর্চার তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর পাশাপাশি মালদার ইংরেজবাজার থানাতেও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

    তবে হুমায়ুন কবীর বড় বিপদে পড়তে পারেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পর্বে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে হুমকি দেওয়ার জন্য। শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাস শনিবার রাতে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ১৯৬(২১),১৯৭,(১)(সি), ২৯৬ (বি), ১৩২, ৩৫৬ (২ ),৩৫২ ৩৫৩ (২ ) এবং ৩৫১ (২) ধারায় একটি সুয়ো মোটু মামলা রুজু করেছেন। 

    হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, দু'টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, জাতীয় সংহতি নষ্টের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে আঘাত এবং কর্তব্যে বাধা দানের চেষ্টা, মানহানি, উত্তেজনামূলক ভাষণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

    হুমায়ুনের বিরুদ্ধে যে ধারায় পুলিশের তরফ থেকেও মামলা রুজু করা হয়েছে তার মধ্যে একাধিক ধারা জামিন অযোগ্য। একের পর এক দায়ের হওয়া মামলা এবং পুলিশের সুয়ো মোটো মামলা নিয়ে হুমায়ুন কবীরের প্রতিক্রিয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি  প্রতিক্রিয়া দেননি। হুমায়ুন কবীর যদি প্রতিক্রিয়া দেন তাহলে পরে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। 

    হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিজেপির যুব মোর্চার অভিযোগ দায়ের এবং পুলিশের সুয়ো মোটু মামলা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন,"হুমায়ুন কবীর 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান। তবে ওঁর সঙ্গে আম জনতাও নেই আর উন্নয়নও নেই। তাই শুধু বাবরি মসজিদ আর মুসলমান নিয়ে আলোচনা। উনি কি শুধু মুসলমানদের নেতা ? বিভিন্ন  সংবাদ মাধ্যমে গোটা রাজ্যের লোক এবং হুমায়ুন কবীরের পরিবারের লোকেরাও তাঁর মুখের ভাষা শুনেছেন। হুমায়ুন কবীর যদি নিজের ভাষা শুদ্ধ না করেন তাহলে তাকে শোধন করার ব্যবস্থা বিজেপি করবে।"

    তিনি বলেন," হুমায়ুন কবীর যাকে যা পারছেন বলে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা রুজু হচ্ছে তা শোধন করার একটা প্রক্রিয়া। এতে যদি তিনি শুধরে যান ভালো, না হলে তাঁকে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে (পড়ুন জেলে) শোধন করে দেওয়া হবে।"
  • Link to this news (আজকাল)