• বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার ছক! ডোংরিতে প্রেমজির ঘরে ঢুকে স্তম্ভিত পুলিশ
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • ঘিঞ্জি এলাকা। সব বাড়িই গায়ে গায়ে। তার মধ্যে থেকে ফায়াজ় প্রেমজির ভাড়াবাড়িটা খুঁজে বার করতেই কালঘাম ছুটেছিল পুলিশের। শেষমেশ যখন মিলল, দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন সকলে। ঘর তো নয়, যেন বিষ তৈরির কারখানা! তদন্তকারীরা দেখেন, ঘরের ভিতরে পড়ে রয়েছে ৫০ কেজি জ়িঙ্ক ফসফাইড। যা ইঁদুর মারার বিষ তৈরিতে কাজে লাগে। তার সঙ্গে ১৫ হাজার ক্যাপসুল, যার ভিতরে অন্তত ১ গ্রাম করে জ়িঙ্ক ফসফাইড রয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল ছিল। যার অর্থ, সেগুলির ভিতরেও ওই বিষ ভরার পরিকল্পনা ছিল।

    মুম্বইয়ে মহরমের শোভাযাত্রায় এই বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার দায়েই প্রেমজিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুুযায়ী, পরে জেরায় পুলিশের কাছে প্রেমজি দাবি করেছেন, এ রকম ৩০ হাজার বিলি করে অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এটাকে ‘মহৎ কাজ’ হিসেবেই দেখছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই শনিবার মুম্বইয়ের রহমতাবাদ কবরস্থানের কাছ থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন।

    সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিষাক্ত ক্যাপসুলকে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ হিসেবেই প্রচার করেছিলেন প্রেমজি। কিন্তু তাঁর একার পক্ষে এত ক্যাপসুল বিলি করা সম্ভব ছিল না। তাই এই কাজে কয়েক জনকে নিয়োগও করেছিলেন। ফায়াজ় গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই তাঁর বানানো ক্যাপসুল খেয়ে ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সলমন সৈয়দ এবং আলি আব্বাস জানান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ভেবেই তাঁরা ক্যাপসুল খেয়েছিলেন। তার পরেই শুরু হয় বমি। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেই প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অসুস্থ হয়ে পড়া সকলেই এখন বিপন্মুক্ত।

    কিন্তু প্রেমজির এই ‘গণহত্যা’র পরিকল্পনার নেপথ্য কারণ কী, তা অবশ্য এখনও তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রেমজি পুণের বাসিন্দা। তাঁর রঙের কারবার। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদবিচ্ছেদ ঘটে গিয়েছে। প্রেমজির মা-বোন থাকেন ইরানে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি বেশ কয়েক বার ইরান এবং ইরাকে গিয়েছেন। কিন্তু গত এক বছরে প্রেমজি ইরান-ইরাকে গিয়েছেন প্রায় ১৯ বার। এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রে খবর, এই তদন্তে মুম্বই পুলিশের জঙ্গিদমন শাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিও যুক্ত। প্রেমজির আর্থিক লেনদেন, কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে জঙ্গিযোগ রয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে তা-ও। উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুল ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)