• ‘ফার্মহাউস, স্করপিও, ৬৫ লক্ষ টাকার বাড়ি’, রামমন্দিরে অনুদান তছরুপে মূল অভিযুক্তের সম্পত্তির খোঁজে পুলিশ
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • রামমন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে ক্রমশ বেরিয়ে পড়ছে কেউটে। দানের অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার মধ্যে অনুকল্প মিশ্রর উপরে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। অভিযোগ, অনুদানের টাকায় বাসভা গ্রামে একটি ফার্মহাউস আর অযোধ্যার বুকে একটি ৬৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। একটি স্করপিও কেনার তোড়জোড়ও নাকি করছিলেন অনুকল্প।

    পুলিশ সূত্রে খবর, একটি আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে রামমন্দিরে অনুদানের নগদ অর্থ গণনার দায়িত্ব পান অনুকল্প। অভিযোগ, তার পর থেকেই একটু একটু করে তছরূপ চক্রে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, অনুকল্পই তাঁর ভগ্নিপতী লবকুশ মিশ্রকে অনুদান গণনার দলে ঢুকিয়ে দেন। মামলায় এখনও পর্যন্ত ধৃত ৮ জনের মধ্যে লবকুশও অন্যতম অভিযুক্ত।

    অযোধ্যার বাসভা গ্রামে বাড়ি অনুকল্পের। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁরা কথা বলেন গ্রামবাসীদের সঙ্গেও। তদন্তকারীদের দাবি, রামমন্দিরের কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে অনুকল্পের আর্থিক অবস্থা আমূল বদলে গিয়েছে। গত কয়েক বছর আগেও নাকি এমনটা ছিল না। তিনি সত্যিই ফার্মহাউস তৈরি করেছেন কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অযোধ্যায় ৬৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি কেনার অভিযোগেরও তদন্ত চলছে। অনুকল্প একটি স্করপিও গাড়ি কেনার তোড়জোড় করছিলেন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।

    গত ৩০ এপ্রিল অনুকল্পের গ্রামে একটি কথকতার আয়োজন করা হয়েছিল। সাত দিন ধরে চলেছিল সেই অনুষ্ঠান। রামমন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য কত টাকা খরচ হয়েছিল, কোথা থেকে এত টাকা এল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অনুকল্পের ভগ্নিপতী লবকুশ মিশ্রের সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি ভাড়া বাড়িতে থাকলেও সম্প্রতি এক লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাইক কিনেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই অর্থের উৎস কী খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    রামমন্দিরে অনুদানের টাকা গণনার জন্য মোট ১৪ সদস্যের একটি দল রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মী, আর তিন জন মন্দির ট্রাস্টের প্রতিনিধি। এই দলই মন্দিরের চারটি দানবাক্স এবং কম্পিউটারাইজ়ড অনুদান কাউন্টারে জমা পড়া অর্থ গণনা করেন। ট্রাস্টের এক আধিকারিকের দাবি, অনুদান সংগ্রহ থেকে শুরু করে টাকা গণনা, সবই সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে হয়। ফলে অনিয়মের সুযোগ নেই।

    যদিও বিরোধীদের অভিযোগ একেবারেই ভিন্ন। প্রথমে সমাজবাদী পার্টি প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল। পরে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দল দাবি করে, মন্দিরের অনুদানের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে ট্রাস্টের আর্থিক নথিতে অন্য ছবি ধরা পড়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুদান বাবদ ট্রাস্টের আয় হয়েছে ৮২.৭৮ কোটি টাকা। একই সময়ে বিভিন্ন আমানতের সুদ থেকে এসেছে ১৩৮.০৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময়ে ট্রাস্টের মোট আয় দেখানো হয়েছে ২২০.৮১ কোটি টাকা।

  • Link to this news (এই সময়)