পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে কবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিলেন হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল? এ বার সামনে এল সেই তথ্য। গত ফেব্রুয়ারিতে কেতনের সঙ্গে বাগদান সারেন সিয়া। তার আগে প্রেমিককে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন উদয়পুরে। পুলিশের সন্দেহ, সেখানেই কেতনকে খুনের ছক কষেন তাঁরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেতন ও সিয়ার আনুষ্ঠানিক বাগদানের রিলস, ছবি ও পোস্ট দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, তাঁরা বোধহয় সুখী প্রেমিক-প্রেমিকা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, সেই হাসিমুখের আড়ালেই চলছিল এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতনের সঙ্গে বাগদানের কয়েক সপ্তাহ আগে চেতনকে নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে উদয়পুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিয়া। সেখানে তাঁরা কয়েক দিন একসঙ্গে কাটান। সেই সফরের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রযুক্তিগত এবং ফরেনসিক প্রমাণ একসঙ্গে মিলিয়ে গোটা ষড়যন্ত্রের ছক বোঝার চেষ্টা চলছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, উদয়পুরেই কেতন খুনের ছক কষেছিলেন সিয়া এবং চেতন।
পুলিশি জেরায় সিয়া দাবি করেছেন, তিনি কোনও দিনই কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সিয়ার ধারণা ছিল, কেতনের মৃত্যু হলে অন্তত বছর তিনেক তাঁকে আর কেউ বিয়ের জন্য চাপাচাপি করবে না। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে দিলে সমাজে বদনাম হবে, এই আশঙ্কাও ছিল তাঁদের। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিকল্পনা ছিল তিন বছর পর চেতন আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সিয়ার পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, কেনাকাটার অজুহাতে কেতনের কাছ থেকে এক কোটি টাকা নিয়েছিলেন সিয়া। অভিযোগ, সেই টাকা তিনি তুলে দিয়েছিলেন চেতনের হাতে। আসলে নিজেকে গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সিয়ার প্রেমিক। তার জন্যই টাকার দরকার ছিল। পুলিশের দাবি, চেতন সিয়াকে এও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, টাকা পেলে তিন বছরের মধ্যেই নিজেকে দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে দাবি, গত ১৮ জুন ঘুরতে যাওয়ার নাম করে কেতনকে পুনের লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান সিয়া। পিছু পিছু সেখানে পৌঁছে যান চেতনও। অভিযোগ, একটি নির্জন জায়গায় পৌঁছনোর পর সিয়া ইশারা করতেই কেতনকে গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেন চেতন।
সিয়া পুরো বিষয়টাকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাঁর আচরণে সন্দেহ হয় কেতনের বোনের। ২১ জুন তাঁরা সপরিবার ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের দাবি, যে জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেখান থেকে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এখান থেকেই গোটা ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।