• বালুরঘাটে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা
    আজ তক | ২৯ জুন ২০২৬
  • Balurghat TMC Office Vandalism: শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ স্থানীয় এক পরিবার শ্রমিক লাগিয়ে দলীয় কার্যালয়টি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত পরিবারের পালটা দাবি পার্টি অফিসটি আসলে তাদের নিজস্ব জায়গা জবরদখল করে তৈরি করা হয়েছিল। বহু বছর ধরে মহকুমা শাসক, বালুরঘাট থানা, পুরসভা ও খোদ তৃণমূল নেতৃত্বের দরজায় দরজায় ঘুরেও কোনও সুরাহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা নিজেরাই এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালুরঘাটের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় এই অফিসটি সাময়িকভাবে বিজেপির দখলে চলে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিজেপির শহর সভাপতি নিজে উদ্যোগী হয়ে অফিসের চাবি ও দায়িত্ব তৃণমূলের হাতে তুলে দেন। সেই সংবেদনশীল আবহের মধ্যেই ঘটে গেল পার্টি অফিসটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনা। অন্যদিকে ওই বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিবাদ ও আইনি লড়াই দেখা দিয়েছে। চন্দ্রনাথ ঝা ও বীরেন রায় নামের দুই ব্যক্তি উভয়েই ওই জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তৃণমূলের কার্যালয় ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে চন্দ্রনাথ ঝায়ের স্ত্রী অনিতা ঝা স্পষ্ট জানান আমাদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তৃণমূল এতদিন পার্টি অফিস বানিয়ে রেখেছিল। আমরা প্রশাসনের বহু জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনও সুরাহা পাইনি। তাই এবারে আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ওই পার্টি অফিসটি সরিয়ে দিলাম। তবে এই তত্ত্ব মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী টগরি মহন্ত। তাঁর দাবি ওই জমি চন্দ্রনাথ ঝা যেমন নিজেদের বলে দাবি করছেন তেমনি বিরেন রায়ও নিজেদের বলছেন। কিন্তু আদতে ওই জমিটি পূর্ত দপ্তরের। আজ ওরা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে বেআইনিভাবে পার্টি অফিসটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

    জমি বিবাদে জড়িয়ে থাকা অপর পক্ষ বীরেন রায়ের ছেলে বিল্টু রায় আবার ঝা পরিবারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তাঁর অভিযোগ তৃণমূল অফিসটাকে শুধু সরিয়ে দেওয়াই নয় এর আড়ালে আমার নিজস্ব জায়গাও দখল করার চেষ্টা করছে ওই পরিবার। আমি ইতিমধ্যেই ওই ঝা পরিবারের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির শহর সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত জানান এর আগে পার্টি অফিসটি আমাদের ছেলেরা দখল করেছিল ঠিকই তবে পরে আমরাই সৌজন্য দেখিয়ে অফিসটি ফেরত দিয়ে এসেছিলাম তৃণমূলকে। এই দিনের ভাঙচুরের ঘটনার সাথে বিজেপির কোনও স্তরের কর্মী বা সমর্থক কেউ জড়িত নেই।

     
  • Link to this news (আজ তক)