• ‘আন্তর্জাতিক আদালতে টেনে নিয়ে যাব’, ইজ়রায়েল-আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি মোজতাবার, চাইলেন ক্ষতিপূরণও
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ডাক দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ লিডার মোজতাবা খামেনেই। তুললেন ক্ষতিপূরণের দাবিও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তিনটি জায়গায় একযোগে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সেনা। তার পর প্রায় দুই মাস ধরে চলে যুদ্ধ। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বহু বৃদ্ধ ও শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। রবিবার X পোস্টে খামেনেই দাবি করেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতে এর বিচার হওয়া উচিত।’

    যুদ্ধের প্রথম দিন আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করেছিল ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ সেনা। সেই প্রসঙ্গ টেনে মোজতাবা বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে খুন করেছে। শিশু-বৃদ্ধ কাউকে ছাড়েনি। এর বিচার চাই।’ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকান ও ইজ়রায়েলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্য এমন অনেক মন্তব্য করেছেন, তাতে তাঁরা নিজেরাই অজান্তে হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। মোজতাবার কথায়, ‘আদালতে এই মন্তব্যগুলিই ইরানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।’

    ইরানের বিরুদ্ধে যত হামলা হয়েছে, তার প্রতিটার বিচার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন মোজতাবা। তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকা ও ইজ়রায়েলি নেতাদের প্রকাশ্য মন্তব্য ও গর্বের সঙ্গে দেওয়া বক্তব্য কার্যত অপরাধের স্বীকারোক্তি। এই সব মন্তব্যই আন্তর্জাতিক আদালতে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।’

    অন্য দিকে, আগামী ৩০ দিন হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইরানের হাতেই থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরাক সফরে গিয়েছেন তিনি। আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি নিয়ে ইরাকি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এক মাস হরমুজ়ের নিয়ন্ত্রণ শুধু ইরানের হাতে থাকবে। এই সময়ে অন্য কোনও দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।’ তবে তার পরে কী হবে, সেই নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

    হরমুজ় প্রণালীকে পুরোপুরি সচল করার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন আরাঘচি। আমেরিকার নাম না নিয়ে হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘কোনও দেশ হস্তক্ষেপ করলে উত্তেজনা তৈরি হবে। কাজেও অনেক দেরি হবে।’ এর মধ্যে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। হরমুজ় প্রণালী নিয়ে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তার সমাধানের চেষ্টা করবেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)