স্নান যাত্রার আগে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী। শুধু মন্দিরে আসা নয়, রবিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে বিশেষ সন্ধ্যা আরতিতেও যোগ দেন তিনি। সেই সঙ্গে নামগানেও মেতে ওঠেন শিশির অধিকারী। গান এবং খোলের সুরে মন্দিরে নাচেনও তিনি।মন্দিরে মধ্যেই প্রভু জগন্নাথের সামনে, কীর্তনের সঙ্গে, নাচতে দেখা যায় তাঁকে।
রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে দিঘায়। তার আগে, সোমবার, পুরীর মন্দিরের মতো দিঘার জগন্নাথ মন্দিরেও হবে স্নান যাত্রা। আর, রবিবার সন্ধ্যায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যান কাঁথির প্রাক্তন শিশির অধিকারী। স্নান যাত্রা তথা পূর্ণিমার আগে মন্দিরে চলে বিশেষ পুজোপাঠ। তাতে যোগ দিতেই দিঘা কালচারাল সেন্টারে আসেন শিশির অধিকারী। ভক্তি ভরে সন্ধ্যা আরতিও করেন তিনি। সেই সঙ্গে জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ভক্তদের সঙ্গেও নাচেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর সঙ্গে ইসকনের তরফে ছিলেন রাধারমণ দাস।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে আসার পরেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাবাকে স্বাগত জানান রাধারমণ দাস। ইসকনের তরফ থেকে কাঁথির প্রাক্তন সাংসদকে রথযাত্রায় উপস্থিত থাকার জন্য আবেদনও করা হয়। রথের দড়ি টেনে রথযাত্রার শুভ সূচনার জন্য অনুরোধ করা হয় তাঁকে। তবে রবিবার নামগানে মেতে ওঠলের রথ যাত্রার দিনে তিনি সেখানে আসতে পারবেন কি না সেই বিষয়ে কিছু জানাননি শিশির অধিকারী।
এ বার দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা দ্বিতীয় বছরে পড়ছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের জানানো হয়েছে, সোমবার, রীতি মেনেই হবে প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার পবিত্র স্নান যাত্রা। বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান, কীর্তন এবং ভক্তের উপস্থিতিতে সকাল ৯টার সময়ে হবে পাহাণ্ডি বিজয় অনুষ্ঠান। এর পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় হবে মহাস্নান (স্নানযাত্রা)। দুপুর ১টার সময়ে প্রভুর গজবেশ দর্শন হবে, এর পরেই অনবসর পালন করেন প্রভু জগন্নাথ। রথযাত্রা পর্যন্ত সাধারণের দর্শন থেকে অন্তরালে থাকবেন তিনি। রথযাত্রার পূর্বে নবযৌবন রূপে পুনরায় দর্শন দেবেন তিনি। এই কারণে সোমবার সন্ধ্যা থেকে রথযাত্রার আগে পর্যন্ত জগন্নাথদেবের দর্শন বন্ধ থাকবে।
তবে এই সময়েও ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে জগন্নাথ মন্দির। শ্রীশ্রী রাধা মদনমোহনের দর্শন, পূজা, আরতি ও অন্যান্য নিত্যসেবায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন তাঁরা।
রথযাত্রা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। এই জন্য শনিবার দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ভবনে একটি বৈঠকও হয়। ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার-সহ অন্যান্যরা। রথ যাত্রার ভিড় নিয়ন্ত্রণ-সহ দর্শনার্থীদের যাতে কোনও সমস্যা বা অসুবিধায় পড়তে হয় সেদিকে নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল।