• ‘বাসন মাজতাম, ঝাঁট দিতাম, তবু মারধর করত’, ভিডিয়োয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা যুবকের
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • বেঙ্গালুরুর অতুল সুভাষের স্মৃতি এখনও টাটকা। স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। রবিবার একই রকম ঘটনা ঘটল হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মৃত্যুর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন রাহুল (২৮) নামে এক যুবক। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের দোকান থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    বাড়ির সব কাজ তাঁকেই করতে হতো বলে শেষ ইনস্টাগ্রাম লাইভে অভিযোগ করেছেন রাহুল। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘বাসন মাজি, ঘরদোর ঝাঁট দিই, সব করি। তার পরেও আমাকে মারধর করে। মিথ্যা মামলাও করেছে।’ এর ফলে মানসিক চাপে কাটাতে হতো বলে ভিডিয়োতে অভিযোগ করেন রাহুল। নাম করে করে স্ত্রী জ্যোতি, শাশুড়ি বীণা, শ্বশুর বিট্টু এবং স্ত্রীর বোন নীতুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

    তিনি যে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন, সেই কথাও জানিয়ে দেন লাইভ ভিডিয়োতেই। রাহুল বলেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী আর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাই দায়ী।’ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানোর পাশাপাশি মৃত্যুর পরে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি মা, ভাই এবং বোনেদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস চারেক আগে একটি জামাকাপড়েক দোকান খুলেছিলেন রাহুল। রবিবার সকালে দোকানে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে শুরু হয় ইনস্টাগ্রাম লাইভ। তার পরেই খবর আসে, দোকানের ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বছর দু’য়েক আগে জ্যোতি নামে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেম হয় রাহুলের। দু’জনে বিয়েও করেন। কিন্তু তার পর থেকেই সমস্ত অশান্তির শুরু।

    এখানেই শেষ নয়। রাহুলের পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আলাদা থাকতে চাইতেন জ্যোতি। স্ত্রীর কথা মেনে নিয়ে আলাদা ঘরভাড়াও করেছিলেন রাহুল। অমিত নামে তাঁর এক আত্মীয়ের অভিযোগ, স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লাগাতার মানসিক নির্যাতনের কারণেই ভেঙে পড়েন তিনি। এমনকী রাহুলকে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ পরিবারের।

    গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদাবাদ পুলিশের আধিকারিক সঞ্জয় কুমার। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিয়োটি গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)