করাচিতে সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ভারতকে দায়ী করে পাকিস্তানের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল ভারত সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসলামাবাদের উচিত অন্যের দিকে আঙুল তোলার বদলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং বাস্তব তথ্যের উপর দাঁড়িয়ে নয়। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘পাকিস্তান ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যাচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে। এ সব ছেড়ে পাকিস্তানের উচিত নিজের ঘরের দিকে তাকানো। তাদের উচিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে মদত দেওয়ার নীতি বাতিল করা। আগে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখা উচিত। তার পরে অন্যের দিকে আঙুল তুলবে। পাকিস্তানের মাটিতে যে জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে, আগে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক। ’
শনিবার রাতে করাচির সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলা হয়। তাতে ৪ আধাসেনা নিহতও হন। নিরাপত্তাবাহিনীও প্রত্যাঘাত করে। তাতে ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আর এক জন গুরুতর জখম হয়। পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালায়। তার পরে শুরু হয় গুলির লড়াই। পরে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকজন হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করে এবং একজনকে আটক করার দাবি ওঠে।
পাক সেনার দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলির বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে এবং পরোক্ষ ভাবে তারা ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে প্রকাশ্যে এমন কোনও প্রমাণ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও সামনে আনা হয়নি।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-আহরার। তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র একটি সহযোগী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান বারবার নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় বাইরের শক্তির উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। ভারত জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ করাই পাকিস্তানের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, করাচির হামলার পরে পাকিস্তান পূর্ব আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে।