• ২১ জুলাইয়ের জোরদার প্রস্তুতি জোড়াফুল শিবিরের দু’পক্ষেরই
    এই সময় | ২৯ জুন ২০২৬
  • এই সময়: তিন দশকের ট্র্যাডিশন মেনে ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করতে চেয়ে লালবাজারে চিঠি দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূলও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ২১ জুলাইয়ের সভা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির জমানায় লালবাজার আদৌ কোনও পক্ষকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একাধিক রাস্তার সংযোগস্থল বন্ধ রেখে সভার অনুমতি দেবে িক না, স্পষ্ট নয়। কলকাতা পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন, বিধায়ক কুণাল ঘোষ, আইনজীবী নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মঞ্চ নির্মাণের জায়গা দেখতে যান। তৃণমূল নেতাদের সেখানে ফিতে হাতে মাপজোক করতেও দেখা যায়।

    লালবাজারে চিঠি পাঠিয়ে ঋতব্রত–আখরুজ্জমানদের বিদ্রোহী শিবির–ও বসে নেই। কলকাতা পুলিশ যদি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি না দেয়, তা হলে কী ভাবে ধর্মতলায় ২১ জুলাই উদযাপন হবে, তার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছে বিদ্রোহী শিবির। ঋতব্রত শিবিরের কোন কোন বিধায়ক, কাউন্সিলারকে জমায়েত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে, কারা ২১ জুলাই–র সভা নিয়ে প্রচারের দায়িত্বে থাকবেন, স্বেচ্ছাসেবক টিমের দায়িত্বে কে থাকবেন, তা দ্রুত আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে বলেই বিদ্রোহী শিবির সূত্রের খবর।

    লালবাজার যদি অনুমতি দেয় কিংবা যদি অনুমতি না দেয়—সেই দুই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্রোহী শিবির। ঋতব্রতর কথায়, ‘ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ওখানেই আমরা কর্মসূচি করতে চাই। পুলিশ–প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেই অনুযায়ী আমরা আলোচনা করে পদক্ষেপ ঠিক করব।’

    লালবাজার অনুমতি না দিলে আদালতেও যেতে পারে বিদ্রোহী শিবির। কালীঘাট ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুলিশ যদি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি না দেয়, সে ক্ষেত্রে সেখানে গাড়ির উপরে দাঁড়িয়ে সভা পরিচালনা করবেন মমতা। পুলিশ অনুমতি না দিলে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছে কালীঘাট। ভিক্টোরিয়া হাউসের এলাকা মাপজোক করে কুণাল বলেন, ‘আইন মেনে আমরা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছি। শাখা সংগঠন, গণসংগঠনের তরফে অনুরোধ রয়েছে তাদের পৃথক জায়গা দেওয়ার। তাই মঞ্চ–সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেছি। মাপজোক করা হয়েছে।’ লালবাজার যদি ব্যস্ত রাস্তা বন্ধ রাখা যাবে না––এই যুক্তি দেয় তা হলে যোগ দিবস উপলক্ষে সাতদিন রোড রোড বন্ধ ছিল এই যুক্তি কালীঘাটের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। দোলার কথায়, ‘যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোড অঞ্চল সাতদিন বন্ধ ছিল। আমরা আশাবাদী পুলিশ এবং কোর্ট আমাদের অনুমতি দেবে।’

    ২১ জুলাই নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের তৎপরতা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এখন তৃণমূল–কালীঘাট এবং তৃণমূল–মার্কবাদী––এই দু’টি তৃণমূল দেখা যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের কাছ থেকে ২১ জুলাই চুরি করেছিলেন। ওরা এখন চোরের উপরে বাটপারি করছে। চোর আর বাটপারের এই কারবারের মধ্যে আমরা নেই।’

    তৃণমূলের দুই শিবিরের এই কোন্দলের মধ্যে ২১ জুলাই শহিদ মিনার ময়দান ভরিয়ে দিয়ে চমকে দিতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস। বহু বছর পরে মহাজাতি সদনের বদলে ময়দানে ২১ জুলাইয়ের সভা করতে চলেছে বিধান ভবন।

    এই সমাবেশের দায়িত্বে থাকা পোড়খাওয়া কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ–সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে কংগ্রেস কর্মীরা আসবেন। শহিদ মিনার ময়দান উপচে পড়বে। আমরা রাহুল গান্ধী কিংবা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। দিল্লি থেকে নেতারা যে আসবেন, সেটা হাইকম্যান্ড নিশ্চিত করেছে। কে আসবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’ শহিদ মিনারে বড় জমায়েত হবে আন্দাজ করে দূরের জেলা থেকে যে কর্মী সমর্থকরা আসবেন, তাঁদের আগের দিন রাতে থাকার ব্যবস্থাও করছে বিধান ভবন।

  • Link to this news (এই সময়)