শ্যামগোপাল রায়
ভ্যাপসা গরমের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডের সদস্যদেরও। এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা কুকুরদের সুস্থ রাখতে এবং তাদের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে লালবাজার। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বদলে ফেলা হয়েছে তাদের খাবারের মেনু, পরিবর্তন এসেছে ডিউটির সময়সূচিতেও।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে বর্তমানে ৪২টি গোয়েন্দা কুকুর রয়েছে। বছরের অন্য সময়ে পায়েল, রোজ়ি, কোরাল, ডেইজ়ি–দের মূল খাদ্যতালিকায় থাকে ডগ ফুড অথবা ভাত ও রান্না করা মুরগির মাংস।
কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ার জেরে চিকিৎসকদের নির্দেশে সেই মেনু থেকে আপাতত অতিরিক্ত মশালাদার খাবার বাদ দেওয়া হয়েছে। তার বদলে সারমেয়দের দেওয়া হচ্ছে সহজপাচ্য ভাত ও কম তেল–মশলা দিয়ে রান্না করা মুরগির মাংস। এর পাশাপাশি, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যেকের পাতে আবশ্যিক করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টক দই। আবহাওয়া পাল্টালে ফের তাদের পুরোনো মেনু ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে চিকিৎসকদের পরবর্তী নির্দেশিকার ওপর।
লালবাজারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আত্রেয়ী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মেনুতে টক দই রাখা অত্যন্ত ভালো পদক্ষেপ। টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস এই চরম আবহাওয়াতেও সারমেয়দের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে এবং শরীর ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখে। আর ডিউটির মাঝে ওআরএস ও গ্লুকোজের জল তাদের শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে, যা চড়া রোদে কাজ করার ধকল সামলাতে অত্যন্ত জরুরি।’
কেবল খাবারেই নয়, ডগ স্কোয়াডের সদস্যদের থাকার জায়গাতেও বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সারমেয়রা যতক্ষণ ঘরের ভিতরে থাকছে, তত ক্ষণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালানো হচ্ছে এয়ার কুলার। দিনে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে আরাম দিতে বাড়ানো হয়েছে স্নানের সময়ও। বছরের অন্য সময়ে প্রতিদিন স্নান করানো না–হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রোজ স্নান করানো হচ্ছে তাদের। সকাল এবং বিকেলে সবাইকে পালা করে নামানো হচ্ছে ডগ স্কোয়াডের নিজস্ব সুইমিং পুলে। লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘একবার জলে নামলে গরমে আরাম পেয়ে তারা আর সহজে ডাঙায় উঠতে চাইছে না। অনেক বুঝিয়ে তাদের ফেরাতে হচ্ছে।’
সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ কুকুরদের নিয়ে। ভিআইপি ও ভিভিআইপি নিরাপত্তার খাতিরে প্রায়শই চড়া রোদের মধ্যে ডিউটি করতে হয় ডেইজ়ি-কোরালদের। রোদে যাতে তারা অসুস্থ হয়ে না পড়ে, তার জন্য আনা হয়েছে বিশেষ ‘কুলিং জ্যাকেট’। বাইরে বের করার আগে এই জ্যাকেটগুলিকে বরফ-ঠান্ডা করে সারমেয়দের গায়ে পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডিউটিরত অবস্থায় ক্লান্তি দূর করতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাদের ওআরএস এবং গ্লুকোজের জল খাওয়ানো হচ্ছে। গরমেও যাতে শহরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তার জন্যই এই বিশেষ ‘শীতল’ আয়োজন লালবাজারের।